বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের ভোক্তাপর্যায়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানিয়েছে, এখন থেকে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা ১০ পয়সা, যা এর আগে ছিল ৮৬ টাকা। এর ফলে প্রতি লিটার তেল ডাইনামিকভাবে কমে গেছে ১৫ টাকা ৯০ পয়সা। নতুন মূল্য আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে, ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বিপিসির হাতে ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের بعدে এই প্রথমবারের মতো বিইআরসি নিজে থেকেই দাম ঘোষণা করল। বিপিসির তেল বিপণনকারী চারটি সরকারি কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল—নতুন দামে ফার্নেস তেল বিক্রি শুরু করবে। মূল ক্রেতা হিসেবে রয়েছে সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
সর্বশেষ ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণ হয়েছিল ২০২৪ সালের ২ আগস্ট। এর পরে অন্তর্বর্তী সরকার মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব তুলে দেয় বিইআরসির হাতে। গত বছরের ২০ জানুয়ারি বিইআরসির সঙ্গে দাম নির্ধারণের জন্য প্রস্তাব পাঠায় বিপিসি। এরপর, অন্তর্ভুক্ত চারটি তেল কোম্পানিও প্রস্তাব দেয়। এক বছর পর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিইআরসি এই প্রস্তাবের শুনানি নেয়।
প্রাথমিকভাবে, বিপিসি ও অন্যান্য কোম্পানি প্রতি লিটার ফার্নেসের দাম ৮১ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়। তবে বিইআরসির গঠিত কারিগরি কমিটির মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সেটি কমিয়ে ৭৪ টাকা ৪ পয়সা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আপত্তি প্রকাশ করে পিডিবি। তারা বলেছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে প্রতি লিটার ফার্নেসের দামী হতে পারে ৫০ টাকা ৮৩ পয়সা।
সব মিলিয়ে, এই দাম পরিবর্তন যেন দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য একটি বড় ধাপ। নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় উৎপাদক ও ক্রেতাদের মধ্যে প্রত্যাশা রয়েছে যেন তেলের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিকগুলো আরও সচেতনভাবে বিবেচনা হয়।









