ঢাকা | রবিবার | ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীর ভাষাশহীদদের চেতনায় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের চেতনায় একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের শতাব্দীপ্রাচীন মূল্যবোধ ধারণ করে দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী করে তোলা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে এক বাণীতে এসব কথা উল্লেখ করেন তিনি। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী মাতৃভাষা বাংলা এবং বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল এক দিন। এই দিনে আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বারসহ অনেক শহীদ আত্মত্যাগের মাধ্যমে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছিলেন। তাদের এই শহীদত্বের মাধ্যমে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের সূচনা হয় এবং পথচলা শুরু হয় স্বাধীনতা সংগ্রামের।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল জাতির আত্মপরিচয়, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক বিকাশের মূল ভিত্তি। একুশের চেতনার ধারায়, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তিনি বাংলাকে দেশের আত্মপরিচয়ের মূল বাহন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই একুশের চেতনা বিশ্বব্যাপী ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সংরক্ষণের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভাষা শহীদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আত্মদানকারীদের আদর্শ ধারণ করে একটি সুষম, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তিনি ভাষা বৈচিত্র্য, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, এবং সর্বস্তরে বাংলার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সবাইকে আহ্বান জানান। পাশাপাশি শহীদদের জন্য দোয়া ও মহান শহীদ দিবসের কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদরা এবং পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা আত্মদান করেছেন, তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ভাষা শহীদদের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।