ঢাকা | শুক্রবার | ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সফল রাষ্ট্র গঠনে সবার একত্রীকরণ অপরিহার্য: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী যে স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছেন, সেটি বাস্তবায়ন করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের কাজের মূল চালিকা শক্তি হলো জনগণের ট্যাক্সের অর্থ, তাই তাদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এক অনিবার্য নৈতিক কর্তব্য।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে একটি উপস্থাপনা উপস্থাপন করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী।

মন্ত্রী বলেন, একটি সফল রাষ্ট্র গঠনের জন্য আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র এই তিন স্তর পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা যদি ভিন্নমত ও বিভেদ ভুলে গিয়ে একত্রে কাজ করি, তবে উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা মানে কেবল প্রশাসনিক কাঠামো নির্মাণ নয়, বরং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার। কার্যকর প্রতিষ্ঠানই একটি শক্তিশালী ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রের ভিত্তি। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পুনর্গঠন কার্যক্রম সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একত্রে努力 করতে হবে।

অত additionally, তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখনো কষ্টে রয়েছে, যা কেবল এক অনুভূতির বিষয় নয়, বরং একটি বাস্তব সামাজিক সত্য। তাদের কষ্ট লাঘব করা রাষ্ট্র, সমাজ ও সচেতন নাগরিকের যৌথ দায়িত্ব। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার এই দুর্বলতা কমানোর চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা হলো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও প্রগতি ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সবার সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বে উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষা করে জনগণের কাছে পৌঁছাতে চায় এই মন্ত্রণালয়। দুর্নীতিমুক্ত একটি সমাজ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা কেবল রাজনৈতিক ভাষ্য নয়, বরং এটি জনগণের সঙ্গে একটি সামাজিক চুক্তি। তাই দেশের মাননীয় মানুষজনের জন্য একটি নিরাপদ, ন্যায়বিচারপ্রসূ ও উন্নয়নের পরিবেশ তৈরি করতে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সবশেষে, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে আমরা এই ইশতেহার ও ৩১ দফার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারব। একযোগে, মানবিক, টেকসই ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য এই মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ও আন্তরিক উদ্যোগই পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আজকালের খবর/বিএস