ঢাকা | রবিবার | ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৭শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আজ পয়লা ফাল্গুন, বসন্তের আগমন সূচনা

আজ পয়লা ফাল্গুন, বসন্তের প্রথম দিন, যা আমাদের জীবনে নতুন প্রাণের সূচনা নিয়ে আসে। এই দিনটি বাংলায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ—একে বসন্ত বরণ উৎসব হিসেবে উদযাপন করা হয়, যা প্রথম শুরু হয় ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ কর্তৃক। বাংলাদেশের মূল ইতিহাসে এই দিনটি ভালোবাসা দিবসের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও, বসন্তের সঙ্গে এর গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। বসন্তের আগমনে প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে ওঠে। গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, বিভিন্ন ফুলের মুকুল ফুটতে শুরু করে এবং পাখিরা দোখায় গান। বাতাসে ভাসে ফুলের সুগন্ধি এবং প্রজাপতিদের রঙিন ডানাও ঋতুরাজের মোহনীয় বার্তা পৌঁছে দেয় আমাদের। এই সময় মনেও জেগে উঠে এক নতুন প্রাণচাঞ্চল্য, যার ফলে মানুষ উৎসবের আমেজে সাজে এবং নিজের রঙিন সাজে পুরো পথচলা শুরু করে।

ফাল্গুন নামটি এসেছে মূলত ফাল্গুনী নামে একটি নক্ষত্র থেকে, যা খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালের সময়কার চন্দ্র ও সূর্য বছর অনুযায়ী মাসের নাম। আধুনিক বাংলাদেশে পয়লা ফাল্গুন পালনের চল শুরু হয় ১৯৫০-১৯৬০ দশকে, তখন থেকে এটি একটি ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময়ের মানুষ রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনার পাশাপাশি বাঙালি ঐতিহ্য অনুসারে পহেলা ফাল্গুন উদযাপন শুরু করে।

বসন্তের আবহাওয়া নানা রকম গান ও কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে—কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের “ফুল ফুটুক, আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত” কিংবা বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের “বসন্ত বাতাসে সই গো” গান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ও গানে বসন্তের সে আলাদা রঙ দেখানো হয়েছে।

তবে এই মাসের সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক গুরুত্বের পাশাপাশি, এটি একটি রাজনৈতিক মাসও। বসন্তের লাল শিমুল ও কৃষ্ণচূড়ার রঙ মনে করিয়ে দেয় ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের কথা, যারা বাংলাকে মাতৃভাষা করে স্বাধীকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এই মাসে আমাদের মনোভাব ও ইতিহাসের স্মৃতি জেগে ওঠে, যেখানে রক্তের দাগে লেখা আমাদের স্বাধীনতার গল্প। বাংলার আজকের মুক্তি ও গৌরবের পেছনে রয়েছে সেই ঋতুরাজের তাৎক্ষণিক চেতনা। সেই কারণেই বসন্তের এই দিনটি শুধু প্রকৃতি নয়, আমাদের গৌরব ও দ্রোহার স্মারক—এক সূচনামাত্র নয়, বরং নতুন স্বপ্ন ও ঐতিহ্যের প্রতীক।