ঢাকা | সোমবার | ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি রোধে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম বজায় রাখতে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সনদ জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে তেজগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার প্রথম সভা ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা নিজে। তিনি বলেন, দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এনএসডিএর গড়ো ফ্রেমওয়ার্ক অত্যন্ত কার্যকর। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, তবে দুর্ভাগ্যবশত কিছু অসাধু চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিকভাবে সনদ বিক্রি করছে, যা দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে। চাকরিদাতারা যদি এই জালিয়াতির ব্যাপারে আস্থা হারান, তাহলে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের স্বপ্ন ক্ষয় হবে। তিনি অনুরোধ করেন, এসব জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে এবং দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ উন্নত করার জন্য সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য যেন হচ্ছে—চাকরিদাতারা বিশ্বাস করেন যে, বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মীর দক্ষতা প্রকৃতিই সত্য।’

এছাড়াও, তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন যে, নতুন উদ্যোগের আওতায় সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে একটি অভিন্ন মানদণ্ডে সনদের ব্যবস্থা চালু হলে জালিয়াতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত সৃজনশীল ও সম্ভাবনাময়। তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে আমাদের দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই পথে আরও সচেতন এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সভায় বিগত সিদ্ধান্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি একটি সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলোতে মানসম্মত কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। যখন এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হবে, তখন দেশের দক্ষতা সনদের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে, এবং সরকারি অর্থের অপচয় কমে যাবে। এ ছাড়া, শ্রমিকের চাহিদা ও দক্ষতা উন্নয়নে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে বলে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, রাজনীতি ও অর্থনীতির এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর পাশাপাশি, সভায় বিশ্বব্যাপী অপ্রচলিত খাতের জনশক্তির স্বীকৃতি ও যোগ্যতা পরীক্ষার ক্ষেত্রে এর বিকাশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে নতুন সেক্টরগুলোতে স্কিলস গ্যাপ এনালাইসিস, উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের মানোন্নয়ন, ও বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো (BNQF) এর আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য আনার পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত।

অবশেষে, বৈদেশিক শ্রমে নিযুক্ত প্রবাসী শ্রমিকের জন্য প্রশিক্ষণ ও সনদ নিয়ে আলোচনা হয়; সাথে নৌপরিবহন ও শ্রম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও গুরুত্ত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থ ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও দেশের শীর্ষ নেতারা। সবাই মিলেমিশে দেশের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একত্রিত হয়েছেন।