ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

রেকর্ড ব্যবধানে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ টিকিট কেটেছে বাংলাদেশ নারী দল

সুপার সিক্সের ম্যাচে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে স্কটল্যান্ডকে ৯০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। টস জিতে আগে ব্যাটিং করে টাইগ্রেসরা ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯১ রান সংগ্রহ করে; পরে বোলিংয়ে দুর্দান্ত করে স্কটিশরা সমগ্র ২০ ওভার খেলেও মাত্র ১০১ রান করতে সক্ষম হয়। এ জয় দিয়ে টানা তিন ম্যাচ জয় তুলে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

নেপালের কীর্তিপুর ত্রিভুবন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অধিনায়ক জ্যোতির ইনিংস ছিল দলের বড় ভর। ৩৫ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় তিনি করেন ৫৬ রান। তার সঙ্গে সোবহানার গুরুত্বপূর্ণ সহযোদ্ধা ক্রিকেটে ১০০ রানের জুটিতে দলকে বড় দিকে নিয়ে যেতে সহায়তা করে—সোবহানা ২৩ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন।

বাংলাদেশের ওপেনিং জুটিতে দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস দ্রুত ৬৭ রান যোগ করেন; দিলারা ২৮ বলে ৩৯ ও জুয়াইরিয়া সমান সংখ্যক বলে ২২ রান করেন। এরপর শারমিন আক্তার সুপ্তা আউট হওয়ার পরই জ্যোতি-সোবহানার সংযুক্ত প্রচেষ্টা দলকে বড় সংগ্রহ গড়ে দিতে সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯১ মাত্রা দাঁড়ায়।

প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ডের ইনিংস শুরুতেই মারুফা আক্তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন—প্রথম বলেই ডার্সি কার্টারকে আউট করেন তিনি। মারুফা সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন, আর স্বর্ণা আক্তার ২টি উইকেট তুলে নেন। স্কটিশদের মধ্যে আট নম্বরে নামা পিপা স্প্রাউল সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন; মেগান ম্যাককল ২০ রান যোগ করেন। বাকিরা বড় অবদান রাখতে না পারায় স্কটলিশ মেয়েরা ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১০১ রানে অলআউট হন।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ২৫৫ বলে রেকর্ডে আছে; সম্প্রতি দক্ষিণ এশীয় গেমসে মালদ্বীপের বিপক্ষে ২৪৯ রানে জয়ের মতো স্মরণীয় পারফরম্যান্সও ছিল। ২০২৪ নারী এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ১৯১ রানে মালয়েশিয়াকে হারিয়েছিল; আজ একই ১৯১ রানের সংগ্রহে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে (৯০ রান) জয় উদযাপন করল টাইগারেসরা।

এই জয়ে বাংলাদেশ সুপার সিক্সে গতিশীল অবস্থান ধরে রেখে বিশ্বকাপ যোগ্যতা নিশ্চিত করেছে—দলীয় একজোট পারফরম্যান্স ও ব্যাটিং-বোলিং দু-দিক থেকেই ভারসাম্যই এই সাফল্যের মূল কাহিনি।