ঢাকা | শনিবার | ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির দুশ্চিন্তা থেকে ৬৫% প্রান্তিক জনগোষ্ঠী মুক্ত থাকল

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, দেশের বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনায়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির রুটিন সিদ্ধান্তের বাইরে দেশের ৬৫ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষকে রাখা হয়েছে, যাতে তাদের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ না পড়ে। এগুলোর আগে তারা এই সিদ্ধান্তের আওতায় থাকলেও এখন সরকারের সাহসী পদক্ষেপে তাদের এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

শনিবার সকালে তথ্য অধিদফতর সম্মেলন কক্ষে জরুরি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিইআরসি একটি আদালত বা আধা-বিচারিক প্রতিষ্ঠান, যারা সুনির্দিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতে এই মূল্য সমন্বয় করে। তবে, সরকারের সংকল্প প্রান্তিক মানুষকে রক্ষা করা—এজন্য তারা এই সিদ্ধান্তের আওতায় সাধারণ মানুষকে অটুট রাখতে চায়। ফলে, বিত্তবান গ্রাহকদের ওপর চাপ থাকলেও নিম্নআয়ের ৬৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী এই মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে থেকে মুক্ত থাকবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের লিখিত মতামত ও পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান। এছাড়াও, তথ্যমন্ত্রী ও উপদেষ্টা জ্বালানি ও বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতি, পরিমাণ ও ধরণ তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদফতরের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

জহির উদ্দিন স্বপন আরো বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ সব উন্নত ও আমদানির উপর নির্ভরশীল দেশগুলো বড় সংকটের মধ্যে রয়েছে। দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ না থাকায়, দীর্ঘদিন ধরে সচেতনতা ও নীতিমালা না থাকার কারণে এখন আমাদের এতটা আমদানিনির্ভরশীল হতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ও বাধ্যবাধকতা মেনে আমাদের মূল্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

সাবেক সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটের স্বজন দুর্বৃত্তায়ন প্রসঙ্গে তারা বলেন, গত এক দশক ধরে এই খাতে অনেক দুর্নীতি ও লোপাট হয়েছে, যার ফলস্বরূপ এখনও ঢালাও সংস্কার জরুরি। তবে বর্তমান সরকারের প্রত্যয় স্পষ্ট—সঠিক পথে ফিরে আসা ও জ্বালানির স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন।

মন্ত্রী বলেন, কালো টাকা ও অর্থপাচারের দায় এখনো বহন করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ এখন ৪১ হাজার কোটি টাকা। যদি এই অঙ্ক অন্য দিক দিয়ে দেখা হয়, তাহলে এতটা বিশাল ক্ষতি কি দাঁড়ায়। যারা এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তারা তাদের বিদেশে অর্থ পাচার ও কালো টাকার মালিক হয়ে দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করছে।

সরকারের এই পরিস্থিতিতে জনগণের জন্য কোন আয়োজন বা পরিকল্পনা ছাড়া, গণমাধ্যম ও জনগণের মধ্যে নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের পদ্ধতি চালু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, সরকার ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করলে তথ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে, আর জনগণও সব সময় সচেতন থাকবে।

অবশেষে, তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সকল কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতেই আমাদের লক্ষ্য। এই তথ্য বিনিময় প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও স্বাভাবিক হবে, সরকারের অগ্রগতির জানিয়েছেন বলেন।