ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

হাদি হত্যায় সংবেদনশীল মন্তব্য ও জড়িতদের নাম প্রকাশের ভাইরাল পোস্ট

ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকােলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনকে জড়িয়ে একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তার বড় ভাই শরীফ ওমর হাদি। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে ফেসবুকে এই পোস্টগুলো প্রকাশের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, ওমর হাদির দ্বিতীয় পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, হাদি হত্যার সঙ্গে জামায়াতের আমিরের একজন পিএস (প্রাইভেট সেক্রেটারি) জড়িত। আর প্রথম পোস্টে তিনি দাবি করেন যে, অন্তর্বর্তী এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা, এমপি ও মন্ত্রী সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি এসব ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য আহ্বান জানান।

ওমর হাদির এই মন্তব্যগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এটি তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নাকি তার সরকারি পরিচয় ব্যবহারের মাধ্যমে করা হয়েছে। যদিও তার বক্তব্যে সরকারি কর্মকর্তাদের ফেসবুক ব্যবহার নিয়মনীতি উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে।

প্রথম পোস্টে ওমর হাদি লিখেছেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে আপোষহীন কেউ কাউকে ক্ষমা করবে না। যারা জড়িত তাদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, তা না হলে এদের দ্বারা ভয়ঙ্কর বিপদ হতে পারে। হাদি হত্যার বিচার না করলে তাদের অপরাধীরা হয়তো আপনাকেও হত্যা করবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মতোই এই ঘটনাও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিলম্ব না করে দ্রুত এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

দ্বিতীয় পোস্টে ওমর হাদি অভিযোগ করেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরিতে জামায়াতের একজন ব্যক্তিগত সহকারী জড়িত। ঢাকা-০৮ আসনে হাদি কে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ দেওয়া হচ্ছে আমাদের।’

ওমর বিন হাদি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে কর্মরত। তার এই ধরনের পোস্টের জন্য প্রশ্ন উঠছে, তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কি এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন? কিছু মহলে মনে হয়, তিনি সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন। বিশেষ করে গত বছর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়, ‘ব্যক্তিগত’ বা ‘পেশাগত বিষয়ে নয় এমন’ কোনও বিষয়ে ফেসবুকে ছবি বা লেখা নিশ্চিতভাবে প্রকাশ করতে পারবেন না সরকারি কর্মকর্তাদের। এর মধ্যে থাকছে, শুধুমাত্র দেশের ভাবমূর্তি ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলো।