বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি তেলের দাম বাধ্য হয়েই বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেই দ্রুত দেশের বাজারে দাম কমানো হবে। সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
গতকাল (৩১ মে) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী জানান, প্রতি মাসে মূল্য সমন্বয় করা হয়, তবে মে মাসে তা হয়নি কারণ এপ্রিল মাসে আগে থেকেই দাম সামঞ্জস্য করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বলতে হয় যে, সরকারের কাছে উপায়হীন সময়ে এই ধরনের অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’ তিনি জানান, আমাদের প্রধান ভোগ্য ডিজেল ৬৬ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে আসছে। তবে, তবুও দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছেন, কারণ এই মূল কনজাম্পশনের জন্য সরকারকে বেশি ভর্তুকি দিতে হয়। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, এ জন্য সবসময় চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যদিও কিছু ক্ষেত্রে বাধ্য হয়েই মূল্য সমন্বয় করতে হচ্ছে।
দুই দফায় তেলের দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, পাশাপাশি বাজেটের চাপও লক্ষণীয়। এই পরিস্থিতিতে কি আস্তে আস্তে দাম বাড়বে নাকি স্থিতিশীল থাকবে—এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট দ্রুত সমাধান হবে। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হঠাৎ কমে আসে, তবে আমাদের পক্ষ থেকেও তা দ্রতই সমন্বয় করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা দেখায় যে, দাম বাড়লে হয়তো বা কমে না। তবে যদি সংকটের সমাধান হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে, তবে আমরা জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবো।’
অন্যদিকে, রোববার (৩১ মে) রাতে ডিজেল ছাড়া অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়, যা সোমবার (১ জুন) থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, অকটেনের দাম বেড়ে ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের ১৪০ টাকা ও কেরোসিনের ১৩৫ টাকা হয়েছে। তবে, ডিজেলের দাম আগের মতোই ১১৫ টাকা রাখা হয়েছে।









