ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জনগণই রাষ্ট্রের মালিক, সেবার মাধ্যমে তা অনুভব করান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনকে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়, বরং মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। ফলে, সরকারি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন সেই মালিকানা কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারেন, সেটাই প্রশাসনের দায়িত্ব।

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, আমাদের দলীয় ইশতেহারটি দেশের সকল মানুষের সমর্থন পেয়েছে। এটি এখন আর শুধুই বিএনপির ইশতেহার নয়, এটি জনগণের ও সরকারের দিক থেকে একটি অঙ্গীকার। এখন এর বাস্তবায়নের পালা।

তিনি আধিপত্য কার্যের বা মাঠ প্রশাসনকে দেশের প্রশাসনিক ‘অ্যাম্বাসেডর’ বলে অভিহিত করে বলেন, জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের সকল কাজের সফল বাস্তবায়ন হলেই সরকারের প্রকৃত সফলতা এসবে। জনপ্রশাসনের সাফল্যই শেষে সরকারের সাফল্য নির্ধারণ করে।

সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরকারি অফিসে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে মানুষ বা দিনমজুর জন্মনিবন্ধন বা অন্য কোন সেবার জন্য সরকারি অফিসে যান, তিনি সেই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পুরো সরকারি ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করেন।

তারা যদি বিনয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা পায়, তবে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে। কিন্তু যদি হয়রানির শিকার হন, তবে তাদের সরকারের প্রতি বিশ্বাস ক্ষয় হয়। সব সমস্যা একবারে সমাধান সম্ভব না হলেও, অফিসারদের উচিত সংবেদনশীল ও আন্তরিক হয়ে ভুক্তভোগীর সমস্যা সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেয়া।

সরকার প্রধান মানবিকতার গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার চায় এমন একটি জনমুখী প্রশাসন, যেখানে সাধারণ মানুষ সম্মানের সঙ্গে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবে। আইন গুরুত্বপূর্ণ হলেও, মানবিকতা আরও বেশী মূল্যবান। বিশেষ করে বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষ যখন সেবার জন্য আসে, তখন শুধু আইনি সমাধান নয়, সাথে তাদের প্রতি মানবিক আচরণও অপরিহার্য। এ ধরনের সহনশীলতা ও সহানুভূতি সমাজের ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলবে।

দেশের বিপুল সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের অনেক সমস্যা থাকলেও, সমাধানের পথও রয়েছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে তরুণ ও কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ করে তুললে, এই জনসম্পদ দেশকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। দেশের উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। সরকার এবং প্রশাসন আপনাদের যে কোনো আইনগত ও মানবিক উদ্যোগে পূর্ণ সহায়তা দেবে।