ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সুজনের গবেষণায় জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী এমপিদের মধ্যে ১০ জন ঋণগ্রহীতা ও কোটিপতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সদস্যের মধ্যে ১০ জনের ঋণ ও দেনাদার আছে। এসব ঋণগ্রহীতার মধ্যে মোট তিরিশের বেশি কোটি টাকার ঋণ রয়েছে চারজনের, যা মোট নির্বাচিতদের ২০ শতাংশ। আশ্চর্যজনকভাবে, শীর্ষ এই ঋণগ্রহীতাদের সবাই বিএনপি থেকে নির্বাচিত। এটি নিয়ে চিন্তাভাবনা ও বিশ্লেষণে উৎসাহ দিয়ে থাকেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। তাদের তথ্য অনুযায়ী, দাখিলকৃত হলফনামা বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই তথ্য উঠে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সুজনের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। যেখানে জানানো হয়, দ্বাদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের মধ্যে মোট ১৩ জন ঋণগ্রহীতা ছিলেন, যা ছিল ২৬ শতাংশ। এর ফলে দেখা যায়, দুই সংসদের মধ্যে এই সূচক কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। শীর্ষ দশ ঋণগ্রহীতার মধ্যে রয়েছেন— বিএনপির সেলিমা রহমান, হেলেন জেরিন খান, শিরিন সুলতানা, নিপুণ রায় চৌধুরী, মারদিয়া মমতাজ, সাকিলা ফারজানা, সুলতানা আহমেদ, সানজিদা ইসলাম, ফাহমিদা হক এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে সাবিকুন্নাহার। এরপর ব্যাংক বা আর্থিক দিক থেকে উল্লেখযোগ্য আয়কারীদের তালিকায় দেখা যায়, সংরক্ষিত নারী আসনের বিজয়ীদের মধ্যে শতকরা ২০ জনের আয় ৫ লাখ টাকার কম, যেখানে ৪ জন কোটিপতি হিসেবে পরিচিত— তাদের বার্ষিক আয় সব মিলিয়ে কোটি টাকারও বেশি। বিশেষ করে, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, জহরত আদিব চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা এবং আন্না মিনজের আয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য, যথাক্রমে ৪ কোটি ২৬ লাখ, ৩ কোটি ১৭ লাখ, ৩ কোটি ৭১ হাজার এবং ১ কোটি ১৩ লাখের বেশি। আবার, এ সংসদে নির্বাচিত ৫০ জনের মধ্যে একাদশ সংসদের তুলনায়, যারা বছরে ৫ লাখ টাকার কম আয় করেন, তার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ শতাংশ, অর্থাৎ ১৬ জন। এই সংখ্যার মধ্যে ৭ জনই এমন যারা আয়ের হারে কিছুটা কম বা অপ্রতুল। বলাবাহুল্য, এই অর্থে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যেও বৈচিত্র্য লক্ষণীয়, যেমন— জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের ১১ জনই এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত। বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, স্বল্প আয়ের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি অধিক আয়ের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বল্প আয়ের হার ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে কোটিপতির হার ৪ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী এমপিদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। পেশাগত ক্ষেত্রে দেখা যায়, ১৫ জন আইনজীবী, ১০ জন ব্যবসায়ী, ৪ জন শিক্ষক, ১ জন চাকরিজীবী, ৫ জন গৃহিণী, আর ৬ জনের পেশা রয়েছে রাজনীতি। পাশাপাশি, আরও কিছু পেশাজীবীও আছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী সহ অন্যান্য সদস্যরা, যারা এই বিশ্লেষণমূলক তথ্য উপস্থাপন করেন।