ঢাকা | মঙ্গলবার | ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সামরিক ও বেসামরিক সুসম্পর্ক শক্তিশালী রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য: ডিসি সম্মেলনে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম গুরুত্বারোপ করেছেন যে, একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক এবং শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুসম্পর্ক অপরিহার্য। তিনি বলেন, সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য বন্ধন না থাকলে রাষ্ট্রব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ও প্রতিরক্ষা সচিব উপস্থিত ছিলেন।

ড. শামছুল ইসলাম দেশের বর্তমান প্রতিরক্ষা নীতি, জাতীয় নিরাপত্তার বহুমাত্রিক দিক এবং স্বৈরাচারী শাসনের সময়কার চ্যালেঞ্জের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে দুর্যোগের সময় জনগণের পাশে দাঁড়ানোর প্রতীক। সম্প্রতি দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামলাতে সামরিক বাহিনী রাজনৈতিক সমাধানে বেসামরিক প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, এজন্য কিছু অসাধু চক্র গোপনে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করলেও তারা সফল হতে পারেনি।

উপদেষ্টার মতে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা সামরিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে অনেক বহুমাত্রিক হুমকির মুখোমুখি। তিনি উল্লেখ করেন, সাইবার আক্রমণ, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, তথ্যযুদ্ধ ও অর্থনীতির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এমন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য নতুন অভ্যুত্থান। তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার ‘টোটাল পিপল ওয়ার’ বা সর্বাত্মক জনযুদ্ধের ধারণাকে নতুন করে উদ্ভাবন করছে, যাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের প্রতিরক্ষা কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হবে। এর অংশ হিসেবে, খুব শিগগিরই বিএনসিসি এবং আনসার-ভিডিপিকে সমন্বিত করে একটি কার্যকর সামরিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলার পরিকল্পনা চলছে।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, বিগত ১৫ বছরে বিদেশি পরিভাষার অজুহাতে কিছু শব্দের ব্যবহারজনিত বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘টেররিজম’, ‘এক্সট্রিমিজম’ বা ‘র‍্যাডিকালিজম’ এমন শব্দগুলো বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির সঙ্গে যায় না। এই শব্দগুলো ব্যবহারে সরকারকে ব্যক্তিগতভাবে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান।

সৈনিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ‘ইউনিফর্ম পরিহিত নাগরিক’ হিসেবে সমাজের অংশ। ডিসিদের বলেন, ‘সেনা সদস্যরা কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে সামাজিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাদের প্রতি সংবেদনশীলতা দেখানো ও সম্মান প্রদর্শন করলে তারা আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারবে। এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক।’

ড. শামছুল ইসলাম আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসন ও পরবর্তী অস্থায়ী সরকারের ক্ষতগুলো কবুল করে আমরা এগিয়ে যাব। তিনি সতর্ক করে দেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় শর্ত ‘জিরো টলারেন্স’ অনুসরণ করতে। তিনি বলেন, ‘নিজের স্বার্থে দুর্নীতি করলে আপনি আমাদের সহযোদ্ধা হতে পারবেন না।’ সবশেষে তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি ধারণ করে, বিভাজনমুক্ত, ঐক্যবদ্ধ ও স্থিতিশীল এক দেশ গড়ার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।