যে মানুষটি কাজের ব্যস্ততার শেষে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন, সে ফিরছেন নিথর দেহের মাধ্যমে। কাস্টমস সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর মরদেহ আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল) ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সকাল ১১টার দিকে মরদেহ গ্রহণের পর দুপুর ১২টায় তার মরদেহ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পরিবারের কাছে পাঠানো হয়, যেখানে তার শেষকৃত্য হবে। ਪਰিবারের সূত্র অনুযায়ী, ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরের দিকে মরদেহ সেখানে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বজনদের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। এর আগে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে কুমিল্লার বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট বৈরাগী (৩৫)। প্রায় সাত ঘণ্টার খোঁজাখুঁজির পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭:৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশে থাকা ফুটপাত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। নিহত বুলেট বৈরাগী কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ১১ এপ্রিল সরকারি প্রশিক্ষণে যোগ দিতে তিনি চট্টগ্রামে যান। ওই দিন শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার পথে রওনা হন। তার সঙ্গে পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, সর্বশেষ রাত ১:২৫ মিনিটে ফোন করে জানান, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাসায় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হন। মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো তথ্য না পেয়ে শনিবার সকালে তার বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি মো. আব্দুল মোমিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ মহাসড়কের আইরিশ হোটেল ও রেস্তোরাঁর পাশের ফুটপাতে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহটি বুলেট বৈরাগীর বলে শনাক্ত করেন। ওসি আরও জানান, মরদেহে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও মুখমণ্ডলে রক্তের দাগ ছিল। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নিখোঁজের বিষয়ে পরিবার আগে জিডি করেছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা সেটি শনাক্ত করেছেন। বর্তমানে এই ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানানো হবে।









