ঢাকা | সোমবার | ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

হাদি হত্যার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলচ্ছে: আইজিপি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, হাদি হত্যার মূল আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা বা আনতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমানের মতো হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের বিভিন্ন কূটনৈতিকভাবে কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সোমবার (৯ মার্চ) পুলিশ সদর দফতর মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নিহত হাদীর সঙ্গে জড়িত ফয়সাল ও আলমগীর নামের দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সক্রিয়ভাবে মনিটরিং চলছে। শিগগিরই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

এছাড়াও, পুলিশ একটি সন্ত্রাসবিরোধী তালিকা প্রস্তুত করেছে যার ওপর ভিত্তি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। লক্ষ্য হচ্ছে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও জঙ্গি সক্রিয়দের চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

তিনিও আরও জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকবে। এ توجهে ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে।

শ্রমিকেরা বেতন-ভাতা সংক্রান্ত অসন্তোষের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ঢাকায় বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। যাতে শ্রমিকদের দাবি দাওয়া হয় মেনে নেওয়া হয় এবং কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। পাশাপাশি, দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়েও দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সঙ্গে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। আশা করা হচ্ছে, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আইজিপি বলেন, পুলিশের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, পুলিশে কখনো স্বজনপ্রীতি চলবে না। সৎ ও যোগ্য লোকেরা যোগ্যতার ভিত্তিতে পদ নেবে। দুষ্টু গরু পুরো শূন্য কুয়োতেই ভালো।

অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে সব সমস্যা সমাধানে প্রতিটি থানায় একটি করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়োগের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এছাড়া, পুলিশের পোশাকের মানও উন্নয়নে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।