বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতার উৎস জনগণই—তাই দলের পক্ষ থেকে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়া হবে না যা বাস্তবে মানুষের করার সাধ্য বা দেশের সক্ষমতার বাইরে। ‘‘যা মানুষের পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব, সেই প্রতিশ্রুতিই আমরা দিচ্ছি,’’ কর্মিসভায় তিনি বলেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মিরপুর-১০, সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন হলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হবে। এজন্য প্রতিটি পরিবারের গৃহিণীদের কাছে একটি ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে, যার মাধ্যমে সরকার বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করবে।
তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি এলাকায় অন্তত একটি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। সেখানে ভাষা শিক্ষা ও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা নিজ উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করতে পারবে বা বিদেশে নিযুক্তির যোগ্যতা অর্জন করবে। যারা বিদেশে চাকরি নিতে গেলে জমি বিক্রি করতে না হয়—সেই লক্ষ্য নিয়ে তাদের জন্য স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে।
কৃষক ও গ্রামীণ উন্নয়ন সম্পর্কেও সরকারের অগ্রাধিকার থাকবে, বলেন তিনি। কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে এবং ১০ হাজার টাকার পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি গ্রাম-গ্রাম স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগ করা হবে।
ঢাকা-১৫ অঞ্চলের চিকিৎসা সুবিধা উন্নয়নের অংশ হিসেবে সেখানে একটি হাসপাতাল স্থাপন এবং দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ থাকা ১০০ ফিট রাস্তার কাজ দ্রুত শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নারী অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তার শাসনকালে শিক্ষা ব্যবস্থাকে মুক্তচলাচল করে তোলার চেষ্টা করেছেন, যার ফলেই আজ বাংলাদেশের মেয়েরা ক্লাস এক থেকে ক্লাস বারো পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে আহত হয়েছেন এবং যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং প্রত্যাশিত একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হবে।
(আজকালের খবর/বিএস)









