ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মাহমুদা মিতু due to ব্যক্তিগত ঠিকানা প্রকাশ

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ঠিকানা প্রকাশের মাধ্যমে দেখা দেয় উদ্বেগ ও উদ্বাশ। এ বিষয়টি নিয়ে গভীর নি:সন্দেহে মুখ খুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম প্রধান ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু। তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, নিজের ব্যক্তিগত ঠিকানা প্রকাশ পেয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

শুক্রবার (১ মে) ভোরে নিজস্ব ফেসবুক পেজে এই উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে তিনি লিখেছেন, একজন প্রার্থী হিসেবে তার বাসার পূর্ণ ঠিকানা এভাবে প্রকাশের বিষয়টি কতটা যৌক্তিক তা ভেবে বিস্মিত হয়েছেন। তিনি বলেন, নিজের বাসার নিচে কেউ এসে দারুণভাবে কল দিচ্ছে, যা ভাবতেই ভয় হয়। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ঠিকানা প্রকাশ হওয়ার পর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কল দেওয়ার ঘটনাও তার জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিতু আরও জানান, প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার মনোনয়ন নেওয়ার সময়ও তিনি এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তখন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এটি নির্বাচনী ফরমের ধরন অনুযায়ী হয়। তবে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এখনো প্রকটভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বললেন, তার পরিবারের মধ্যে সন্তান ও মা রয়েছে। তিনি নিজে অনেক সময় বাসায় থাকেন না। এই পরিস্থিতিতে তার ঠিকানা সাধারণের কাছে প্রকাশ পেয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় অন্তত ২০ থেকে ২৫ বার তাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই তথ্যগুলো ব্যক্তিগত এবং এত সহজে প্রকাশের মতো নয়। তিনি বলেন, আমি এটা স্বীকার করছি, বিষয়টা সবার জন্য নির্মম এবং ভয়ঙ্কর। অথচ, এমন নিরাপত্তাজনিত বিষয়গুলো নিয়মিত চোখে পড়ে, পরে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে জীবনে ভয়ংকর উত্তেজনা এসে ধরে।

মিতু বলেন, “গতকাল রাতে যখন বাসায় ঢুকছিলাম, দেখলাম দুইজন মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো অন্য কারণে ছিল, কিন্তু এই দৃশ্য আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায়। আমি প্রায়ই রাত ১১ থেকে ১২টার মধ্যে বাসায় ফিরি। এই পরিস্থিতিতে আমি খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।”

তিনি আরও বলেন, “এক দেশে যেখানে হাজার টাকায় মানুষ খুন হয়, সেখানে এ ধরনের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। এসব ঘটনায় অবশ্যই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যদি কোথাও দুর্ঘটনা ঘটে, তখনই সবাই সক্রিয় হয়। কিন্তু প্রার্থীদের জীবন সুন্দরভাবে এভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলা চলবে না।”

মিতু অভিযোগ করেন, ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও তেমন গুরুত্ব পায়নি। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনা ঘটার পর বা জীবন বিপন্ন হতে শুরু করলে তখনই নজর দেওয়া হয়। অথচ, যার জীবনসঙ্গী এই দুর্ঘটনা বা হামলা, তার জীবন শেষ হয়ে যায়।”

অতএব, তিনি নির্বাচনী কমিশনের দ্রুত কার্যকর পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বলেছেন, ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষায় নতুন আইন ও নিয়ম চালু করতে হবে। যাতে একজন প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঝুঁকি কমে।