ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সরকারি চাকরিতে শূন্যপদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার: সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান

বর্তমানে দেশের সরকারি চাকরিতে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্য পদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। এই তথ্য তিনি বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের কাছে উত্থাপন করেন। সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীদের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সকল মন্ত্রণালয় ও সরকারি বিভাগের শূন্য পদ সংখ্যার এই হিসাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির (১ম-৯ম গ্রেড) শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণি (১০ম-১২তম গ্রেড) এক লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি, ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি এবং অন্যান্য পদে মোট ৮ হাজার ১৩৬টি শূন্য পদ রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এই শূন্যপদ পূরণের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ছয় মাসের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৯টি, এক বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং পাঁচ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি পদে নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও জানান, এই কর্মপরিকল্পনায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ কর্মচারী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নিয়োগের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও শূন্যপদে নিয়োগের তথ্য পাঠানোর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মেধা, সততা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে মেরিটোক্রেসির ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। আশা করা যাচ্ছে, এর ফলে অন্যায়ভাবে কেউ বঞ্চিত হবে না এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হবে। আরেক প্রশ্নে তিনি জানান, বর্তমান First ও Second শ্রেণির সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধাভিত্তিক। মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য সংরক্ষিত কোটা যথাক্রমে ৫ শতাংশ, ৫ শতাংশ, ১ শতাংশ এবং ১ শতাংশ। সরকার দলীয় একজন এমপি শামছুর রহমান শিমুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে ১২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে, ৩৯ জনের চাকরি বাতিল এবং ৫৬৪ জনকে ওএসডি করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন দুর্নীতি ও দলীয়ীকরণের জন্য করে নিয়োগ আন্দোলনের তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবারের আরেক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য নির্বাচনী ও নির্ভুল মূল্যায়নের জন্য স্কিল-বেজড বা দক্ষতাভিত্তিক পদ্ধতি চালু করার কাজ চলছে। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা দেশের অন্যান্য দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সিলেবাস পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনবে। ভবিষ্যত পরিকল্পনায় রয়েছে, মৌখিক পরীক্ষায় যোগ্যতা ভিত্তিক সাক্ষাৎকার চালু করা হবে, যেখানে প্রার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা এবং মনোভাব মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করতে একটি বছরেই বিসিএস সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।