ঢাকা | | | |

ভারতের সঙ্গে ভিসা ও সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক আলোচনা হাইমায়ুন কবিরের ব্যাখ্যায়

আগামী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এই খবর তিনি সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির পাইপলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের কাছ থেকে ভারতের প্রতি ধন্যবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে উভয় পক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা অপরিহার্য। ভালো মনোভাব নিয়ে কাজ করলে এই সম্পর্ক অনেক বেশি উন্নত হবে। বর্তমানে সরকার একটি সুন্দর ও সুসংহত সম্পর্কের সূচনা করার পথে এগোচ্ছেন।

অতিরিক্ত, হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন যে, বিএনপি দেশের স্বার্থ রক্ষা করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সক্রিয়। জনগণের সমর্থন থাকায় সরকার এখন বৈশ্বিক অঙ্গনে আরও দৃঢ় অবস্থান গড়ে তুলছেন। একই সময়ে, গত ৭ এপ্রিল ভারতের দিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমানের আলোচনা ছিল গুরুত্বপুর্ণ। এতে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে, তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার উপস্থিতি বলে কিছু নেই।’ শেখ হাসিনাকে তিনি ‘পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভারতে তার থাকা এক চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার দেশে ফেরার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক বিক্ষোভের ফলে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতা থেকে তৎকালীন পতনের ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাস ও ভিসা কেন্দ্রগুলোর উপর নানা প্রতিবাদী আন্দোলন হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ, ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কিছু দিন ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এরপর জরুরি চিকিৎসাসহ অন্যান্য বিষয়ে ভিসা ইস্যু বন্ধ ছিল এবং বর্তমানে শুধুমাত্র জরুরি চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনের জন্য ভিসা অনুমোদন দেয়া হচ্ছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা জরুরি চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক কাজের জন্য ভারতে যেতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

আজকের খবর / এমকে