ঢাকা | শুক্রবার | ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ভারত থেকে আসছে ২০০ ব্রডগেজ কোচ: রেলওয়ের উন্নয়নের পথে বড় ধাপ

বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে ভারত থেকে নতুন ২০০টি ব্রডগেজ কোচ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে সংসদে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে প্রকাশিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য বর্ণনা করেন।

মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পটি ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে চলমান রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের জুন থেকে শুরু করে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই নতুন কোচগুলো ধাপে ধাপে রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে। এই নতুন কোচগুলো আসার ফলে দেশের বিভিন্ন রুটে ট্রেন পরিচালনার গতি বাড়বে ও যাত্রীসেবার মানের ব্যাপক উন্নতি ঘটবে।

সংসদে ফরিদপুর-১ আসনের এমপি মো. ইলিয়াস মোল্লার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা-কমলাপুর থেকে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মধুখালী ও গোপালগঞ্জে নতুন রেলগাড়ি চালুর পরিকল্পনা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তবে, এই রুটগুলোর ট্রেন চালানো মূলত নতুন কোচ, ইঞ্জিন ও জনবল সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

ভারত থেকে কোচগুলো আসার পর, রেল কর্তৃপক্ষ রুটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য—আধুনিক এই কোচ ব্যবহারে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী ও আরামদায়ক হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মো. নুরুল ইসলামের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী রেলওয়ের সাম্প্রতিক প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এখনো বনলতা এক্সপ্রেসের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বনান ঢাকায় যাত্রা করা গেলেও পশ্চিমাঞ্চলের ইঞ্জিন, কোচ ও জনবল সংকট রয়ে গেছে।

এই সংকটের কারণে বর্তমানে ১৯টি মেইল বা কমিউটার ট্রেন ও ২১টি লোকাল ট্রেনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত ক্রু ও ইঞ্জিনের অভাবে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি মালবাহী ট্রেন পুশব্যাক বা পিছিয়ে দিতে হচ্ছে। তবে, নতুন কোচগুলো আসার সঙ্গে সঙ্গে এই সংকটের একটি বড় অংশ সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের জন্য একটি বিশদ রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। জানা গেছে, এই ২০০টি ব্রডগেজ কোচ মূলত ভারত থেকে সরবরাহ শুরু হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প সম্পন্ন হবে।

এই বৃহৎ বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা বাড়ানোসহ পণ্য পরিবহনেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সরকার চলমান ট্রেনগুলো পুনরায় সচল করতে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়াকেও দ্রুততর করছে, যাতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই রেলসেবা পেতে পারেন।

আজকের খবর/ এমকে