ঢাকা | শনিবার | ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১১ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

মেঘনা নদীতে মার্চ-এপ্রিল সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা

সরকার কর্তৃক জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাসের জন্য মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রতি জেলে ১৬০ কেজি ভিজিএফের চাল পাবেন। এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নে নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান চালানো হবে। যারা এই আইনের লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা করার ব্যবস্থা রয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস ও স্থানীয় জেলে সূত্রে জানা গেছে, এই জেলায় বর্তমানে প্রায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৪৩ হাজার নিবন্ধিত। এরা মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দুই মাসের জন্য এই সময়ে সকল ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

এছাড়াও, লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত একশ’ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে সব রকমের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদকরণ বন্ধ থাকবে। বরফকলগুলোও বন্ধ থাকবে। জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ নদী ও উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিং, পোষ্টারিং এবং অন্যান্য প্রচারণা চালিয়ে জেলেদের সচেতন করছেন।

চর আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজীমারা পর্যন্ত অন্তত ৩০টি মাছ ঘাট রয়েছে, এর পাশাপাশি নদী এলাকায় স্থাপিত বরফ মিলগুলোও বন্ধ থাকবে। আইন অমান্যকারী জেলেদের জন্য জেল-জরিমানা বা অন্যান্য কঠোর ব্যবস্থা থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মৎস্যজীবীরা বলেন, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদনের জন্য সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে মানছেন। তবে, জেলেদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এখনো হয়নি এবং তাদের পর্যাপ্ত সরকারি খাদ্য সহায়তাও নিশ্চিত নয় বলে অভিযোগ করেন। তারা দ্রুত তালিকা তৈরি করে তাদের চাল সহায়তা পেতে চান।

বরফ মিল মালিকরা জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বরফকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তবে এর ফলে তারা অনেক লোকসানে পড়েছেন। যদি সরকারি সহযোগিতা পেতেন, তাহলে পরিস্থিতি সহজ হত বলে উল্লেখ করেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, দুই মাসের এই নিষেধাজ্ঞার সফল বাস্তবায়নে প্রতিদিন অভিযান চালানো হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এই অভিযান সফল হলে ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।

জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একটি টাস্কফোর্স কমিটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কাজ করছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভিজিএফের চালের অপব্যবহার হলে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।