শিক্ষার্থীর অপহরণ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর খিলগাঁও থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওই ছাত্রকে। ঘটনাটি জানতে পেরে সচিবালয়ের একজন কর্মচারী, যার প্রতিদিনই স্কুলে যাওয়ার জন্য এই এলাকার কাছাকাছি যাতায়াত, কাঁদতে কাঁদতে দপ্তরে প্রবেশ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে উপস্থিত হয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে ঘটনাটি ঘটনা অবহিত করেন। খবর শুনে তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন করে ছেলেটিকে দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত উদ্যোগের কারণে পুলিশ এক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে।
পুলিশের রমনা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার মাসুদ আলম জানান, অপহৃত শিক্ষার্থী ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। দুপুর আড়াইটার দিকে স্কুল থেকে বের হওয়ার পর তাকে ৪-৫ ব্যক্তি জোরপূর্বক আটকে নিয়ে এক নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করা হয়। এরপরই অপহরণকারীরা বাবার ফোন নম্বর নিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করার হুমকি দেয়।
অপহৃত ছাত্রের বাবা নিঃশব্দে কাঁদতে কাঁদতে সচিবালয়ে যান, যেখানে তার চাকরি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে উপস্থিত হয়ে ঘটনা বর্ণনা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে পুলিশ দ্রুত পুলিশি তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে টাকা পাঠানোর জন্য নম্বর চায়। প্রথমে তারা নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানায়, কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যে দর কষাকষির মাধ্যমে পুলিশ অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে সেই ভবনেই শিশুটিকে উদ্ধার করে। তবে পুলিশ যখন সেই ভবনে উপস্থিত হয়, তখন অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন হস্তক্ষেপে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি ফোনে পুলিশকে নির্দেশ দেন শিশুটিকে উদ্ধার করার জন্য। এ ঘটনা দেশের সংশ্লিষ্ট সব মহলকে ভবিষ্যতে সচেতন ও সতর্ক থাকার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।









