রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সম্প্রতি বঙ্গভবনের নিজ কার্যালয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি করে ছিল, যা তাকে কোনো ধরনের اطلاع না দিয়েই করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত জরুরি ছিল যা আমাকে অবশ্যই জানানো উচিত ছিল, বিশেষত এটি একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তবে সরকারপ্রধানরা এ বিষয়ে আমাকে অবহিত করেননি, মৌখিক বা লিখিত কোনও প্রেসনোটও দেননি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ড. ইউনূস সংবিধান অনুযায়ী চলেননি। সংবিধানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তিনি যখন বিদেশ সফরে যাবেন, তা পরে জানাতে হবে এবং ফিরে আসার পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে রিপোর্ট দিতে হবে। কিন্তু তিনি একাধিকবার বিদেশ গেছেন, একবারও আলাপ বা জানানো হয়নি। এর মধ্য দিয়ে একটি অদৃশ্য গোপনীয়তা তৈরি হয়েছে, যা দেশের সাংবিধানিক সন্মান ক্ষুণ্ণ করেছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি এই সরকার গঠনের জন্য নিজের উদ্যোগে শুরু করেছিলাম। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার পরবর্তী সমন্বয় ছিল না। আমাকে জেনে রাখা হয়নি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক সফর এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের বিষয়ে। এমনকি, কানাডার কসোভো ও কাতার সফরেও আমাকে অনুপস্থিত রাখা হয়। এইসব ঘটনা আমাকে অপমানে ফেলে দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে আমার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ বা পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পাননি। আমাকে সম্পূর্ণভাবে আড়াল করে রাখা হয়েছে, এমনকি আমার বিদেশ সফরগুলোও তার দ্বারাই খসড়া প্রস্তুত করে দেওয়া হয়েছে।
একটি বড় অপমানের ঘটনা বলছিলেন তিনি যখন তার ছবি, যা দেশের বিভিন্ন দূতাবাসে স্থাপন ছিল, হঠাৎ করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এক উপদেষ্টা তার বিদেশ ভ্রমণে গিয়েছিলেন, সেখানেও তার ছবি দেখে অপসারণ করা হয়। এই ঘটনাগুলোকে তিনি সরকারের পরিকল্পনামূলক অপসারণের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন।
অন্য এক দৃষ্টান্ত হিসেবে, সাংবাদিকদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ শেষে একটি ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি। যেখানে তার সঙ্গে সাধারণ সাক্ষাৎ ও ফটোসেশনের পর, তা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর, উপদেষ্টা সংক্রান্ত দপ্তর এই ছবি অপসারণ করে দেয়। এই ঘটনাও তার জন্য অপমানজনক। তা ছাড়াও, নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানেও তাকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, তার ছবি ও বাণী প্রকাশ থেকে শুরু করে সরকারি সমস্ত প্রতীকী প্রকাশনা স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি দেশের গুরুত্বপূর্ণ দিবসের ক্রোড়পত্রে তার ছবি ও বাণী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব পেছনের উদ্দেশ্য হলো জনগণের মধ্যে তার উপস্থিতি বা প্রভাব কমানোর চেষ্টায়।
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার বহু চেষ্টা করেছে তার উপস্থিতি ও প্রভাব ধামাচাপা দিতে, যাতে জনগণের কাছে তার সমর্থন ও পরিচিতি কমে যায়। এর ফলে দেশের বিচার, গণমাধ্যম, ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে তার অংশগ্রহণ অনেক সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বারবার অনুরোধ করেন, এই কর্মকাণ্ডের থেকে সাবধান থাকার জন্য এবং দেশের সাংবিধানিক সুস্থতার জন্য।









