ঢাকা | শনিবার | ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আইসিসি নিশ্চিত: বাংলাদেশকে কোনো জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিশ্চিত করেছে, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)কে কোনো আর্থিক, ক্রীড়াগত বা প্রশাসনিক শাস্তি হবে না।

বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে তৈরি হওয়া সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে লাহোরে রোববার আইসিসি প্রতিনিধিদল পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু আইসিসি সোমবার রাতে একটি সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করেছে।

আইসিসি জানিয়েছে, পিসিবি, বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে একটি উন্মুক্ত, গঠনমূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সংলাপ হয়েছে। আলোচনার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬, তবে আলোচনাটি কেবল এটিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের বৃহত্তর দিকগুলোকেও কভার করা হয়েছে।

আইসিসি বিশেষভাবে জোর দিয়েছে যে বিসিবি একটি মূল্যবান ফুল মেম্বার হিসেবে থেকে গেছে—একটি গর্বিত ইতিহাস এবং বিশ্বব্যাপী খেলাটির উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এখনও অটুট। ২০ কোটিরও বেশি সমর্থকের এই বাজারের উন্নয়নের জন্য আইসিসি তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে, যাতে এই বিশ্বকাপে অনুপস্থিতির ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

সামাজিক ও প্রশাসনিক দিক থেকেও সুখবর রয়েছে: বিসিবির ওপর আর কোনো আর্থিক, ক্রীড়া বা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা হবে না বলে সম্মত হয়েছে অংশগ্রহণকারীরা। এছাড়া বিসিবিকে আইসিসির প্রচলিত প্রক্রিয়া পূরণ করলে ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে আরেকটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগও দেয়া হবে।

বিসিবি যদি ইচ্ছা করে, তবে তারা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি (ডিআরসি)-র কাছে আপিল করার অধিকারও রাখতে পারবে—এই অধিকার আইসিসির বর্তমান নিয়মাবলীর আওতায় অক্ষুণ্ণ থাকবে। আইসিসি জানিয়েছে, তাদের দৃষ্টি নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতার ওপর ভিত্তি করে এবং শাস্তির পরিবর্তে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে।

বৈঠকে আনা এসব বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে শাস্তি সংক্রান্ত যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা পাত্তা পায়নি এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য এক সহায়ক রূপরেখা তৈরি হয়েছে।