ঢাকা | শনিবার | ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রাত ১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলেどক দল কত আসন পেল

দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, যা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক ঘটনা। এই নির্বাচনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে গণভোট, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুনমাত্রা যোগ করেছে। উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সকাল সাড়ে ৭টার পর শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে শেষ হয় ভোটগ্রহণ। এখন চলছে ভোট গণনা, যার ফলাফল ধীরে ধীরে যা মানুষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করছে।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আসতে শুরু করেছে বিশদ ফলাফল। সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপি ও তার জোটের প্রার্থী, যাদের সংখ্যা ১৪১টি। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী জয় পেয়েছেন ৫৭টি আসনে। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বিভিন্ন আসনে, যার সংখ্যা ৩টি।

বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ঢাকায় বিভিন্ন আসনে গুরুত্বপূর্ণ বিজয় এসেছে। ঢাকা-১৫ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি ডা. শফিকুর রহমান, তিনি পেয়েছেন ৮২,৬৪৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল ইসলাম মিল্টন পেয়েছেন ৬১,৯২০ ভোট। ঢাকা-৮ আসনে জয় পেছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস, তিনি পেয়েছেন ৫৭,৯০২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থী পেয়েছেন ৫১,৩৯৬ ভোট।

একইভাবে, ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির ববি হাজ্জাজ জয় লাভ করেছেন, তিনি পেয়েছেন ৯০,৬০১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬,৮৮৯ ভোট। পটুয়াখালী-৩ আসনে ট্রাক প্রতীক নিয়ে বিএনপি জোটের গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নূর বিজয়ী হয়েছেন, তিনি পেয়েছেন ৭৩,৯৩৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৪৭,৯৫০ ভোট।

রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে, জাতীয় নাগরিক পার্টির আখতার হোসেন ১ লক্ষ ৪৭,৯৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯,৬১৬ ভোট। রাত ১১টার পর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ আসনে বিপুল বিজয় লাভ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান, তিনি পেয়েছেন ৫৬,৩৮১ ভোট। একই সঙ্গে, বগুড়া-৬ আসনেও তিনি জয়ী।

ঝিনাইদহ-১ আসনে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন, তিনি পেয়েছেন ১ लाख ৭১,৫৯৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৫৫,৫৭৭ ভোট। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৬২,৫৪৭ ভোট নিয়ে জয়ী হন।

সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কামরুজ্জমান কামরুল ১ লাখ ৬৩,৭০৫ ভোটে জয়লাভ করেছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৯১,১৭৬ ভোট। নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপির লুৎফুজ্জামান বাবর ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী পেয়েছেন ৩৯,৩০৯ ভোট।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির ফজলুর রহমান ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫৩ ভোট পেয়েছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ৫৫ হাজার ৬৪৬ ভোট। জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপির আব্দুল বারী ১ লাখ ৫৭ হাজার ১২৮ ভোট নিয়ে জয়ী। একইভাবে, সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নাছির চৌধুরীর কাছে হার মানেছেন জামায়াতের মোহাম্মদ শিশির মনির।

কুমিল্লায় দেবিদ্বার আসনে, জামায়াতের প্রার্থী জিতেছেন বড় ব্যবধানে: তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ভোট, তার প্রতিদ্বন্দ্বী জসীমউদ্দীন পেয়েছেন মাত্র ২৬ হাজার ভোট। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ৭৮,৯৪৩ ভোটে জয়ী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান ৫৭,৯৫৪ ভোট।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ আন্দোলন বাংলাদেশের হাফিজুর রহমান পেয়েছেন ৯ হাজার ৪৪৯ ভোট। এই ভোটের পার্থক্য ছিল প্রায় ২১ হাজার। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মেহেরপুরে দুটি আসনে জামায়াত ও জোটপ্রার্থীরা বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

মেহেরপুর-১ আসনে তাজউদ্দীন খান ১২২,৮২৯ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন মোট ১০,৪২৪ ভোট। মেহেরপুর-২ আসনে নাজমুল হুদা ৯৪,১৬৮ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ৮৫,৬৮৯ ভোট। সব মিলিয়ে, নির্বাচন শেষ হলে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন ও নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫০টি রাজনৈতিক দল, মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন, যার মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র।