ঢাকা | মঙ্গলবার | ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ইসি জানায়, ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনমত প্রদানের চূড়ান্ত ফলাফল আগামী শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি), অর্থাৎ ভোটগ্রহণের পরদিন বিকেল পর্যন্ত ঘোষণা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনপ্রাপ্ত কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি জানান, একই দিনে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার আমাদেরকে দ্রুত ফলাফল সংগ্রহের সুযোগ দিচ্ছে। যদিও কিছু দুর্গম এলাকায় ট্রাফিক চলাচলজনিত কারণে ফলাফলে সামান্য বিলম্ব হতে পারে, তবুও কোনোভাবেই তিন দিনের বেশি সময় লাগবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে আশ্বাস দেন। তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচন পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ এবং সুন্দর। জনমনে থাকা শঙ্কা কাটিয়ে ওঠার জন্য তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নাগাদ একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরো ট্রাস্টি কমিটি প্রস্তুত। নিরাপত্তার জন্য এবার roughly ১১ থেকে ১২ লাখ করে সেনা, র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন থাকবে। তারা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন এবং কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকবেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রতিটি আসনের জন্য একাধিক মনিটরিং টিম গঠন করা হবে এবং তাদেরকে দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর তথ্য কেন্দ্রীয় সেলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের জন্য ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে প্রতিটি লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধে একটি বিশেষ ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং সেল’ কাজ করবে সার্বক্ষণিক। ভোটারদের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় মোবাইল ফোন সঙ্গে নেওয়া যাবে না। নির্বাচনী পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা এই নির্বাচনের স্বার্থে অপরিহার্য। তিনি জানান, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এবার জালিয়াতির সুযোগ খুবই কম। দেশবাসীকে আস্থা দেওয়ার মাধ্যমে, তিনি আশ্বাস দেন, ১২ ফেব্রুয়ারি একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং এর ফলাফল দ্রুত সময়ের মধ্যে জনগোষ্ঠীর কাছে তুলে ধরা হবে।