ঢাকা | বুধবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বাঙালির আবেগের মাস, ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি

আজ ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হলো বাঙালির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস ফেব্রুয়ারি, যা ভাষার মাস হিসেবে পরিচিত। এই মাসে বাঙালি জাতি তার মাতৃভাষা বাংলার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণ করে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এই মাসের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এর মাধ্যমে বাঙালি তার ভাষা, দেশ ও জাতির পরিচয় লাভ করে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে বাংলাভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারী সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ অনেক শহীদ এ মাসের ইতিহাসে অসীম সাহস ও স্ব dedicatioন চিহ্নিত হয়ে থাকেন। তখনই মুক্তিযুদ্ধের প্রথম অনুষঙ্গ হিসেবে এই ভাষা আন্দোলন সংগঠিত হয়, যেখানে মুসলিম লীগের নেতারা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু করবার পরিকল্পনা প্রকাশ করলে বাংলাভাষার প্রাণপ্রিয় মানুষজন প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ায়।

এ সময় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল ও অন্যান্য নেতা ঘোষণা দেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা। এই ঘোষণা ঘৃণা ও প্রতিবাদের আগুন আরো জ্বালায়। কয়েকজন ছাত্র আন্দোলনে ‘না’ বলে চিৎকার করে পাকিস্তানের শাসকদের অপ্রস্তুত করে তোলে। তার পর থেকেই বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রীয় ভাষা করার জন্য একটি দীর্ঘ আন্দোলন শুরু হয়, যা চলতে থাকে ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২।

পূর্ব বাংলার জনগণ বাংলার স্বতন্ত্রতাকে মর্যাদা দিতে আন্দোলনে অবিচল থাকেন। পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল-সমাবেশে বাধা দেয়। তবে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনীর কর্মীরা এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শান্তিপূর্ণ প্রগতি প্রদর্শনীতে বের হয়। এই মিছিল যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে পৌঁছায়, তখন পুলিশ বিক্ষোভে গুলি চালায়। তাতে শহীদ হন সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ আরও অনেকে। তাঁদের এই আত্মত্যাগের ফলে বাংলাভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হয়, যা বাংলার মানুষের জন্য চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আজকের দিনে আমরা তাঁদের সেই ইতিহাস ও গৌরবের কথা স্মরণ করি, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ত্যাগের মূল্য বেঁচে থাকায়। এ মাসের মধ্যে নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষার নাম। তাই এই ফেব্রুয়ারি মাস শুধু একজন মাস নয়, এটি বাংলার ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতির গৌরবের মাস।