ঢাকা | মঙ্গলবার | ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ড. ইউনূসের সাম্প্রদায়িকতার সংজ্ঞা নিয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রদায়িকতার সংজ্ঞা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এ প্রতিবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের নেতারা প্রশ্ন তোলেন, প্রফেসর ড. ইউনূস কি নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে বলছেন যে, সমাজে ও রাষ্ট্রে সংঘটিত অপ্রকাশিত বা মন্দির ও উপাসনালয়ের বাইরে অন্য কোনো ঘটনা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অন্তর্ভুক্ত নয়? তারা তীব্রভাবে এটিকে উসকানিভরা, অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর সংজ্ঞা হিসেবে বিস্তারে স্বেচ্ছাচারী বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত এক বছরে দেশে কমপক্ষে ৫২2টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কেবল জানুয়ারি মাসেই হয়েছে ৪২টি সংঘর্ষ। এই ধারাবাহিক সহিংসতা ধর্মীয়, জাতিগত এবং আদিবাসী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা বলছেন, এসব ঘটনার ফলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ক্ষুব্ধ, শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন, যেন তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পরিষদ আরও অভিযোগ করে, এমন পরিস্থিতিতে সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন বা রাজনৈতিক দল কেউই তাদের আস্থা ও আশা ফিরিয়ে আনতে পারছেন না।

আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনে প্রকৃত সমর্থন বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা ও একটি মনিটরিং সেল গঠনের প্রস্তাব।

এছাড়াও, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব, ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা গুজবের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি এবং দায়ীদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানানো হয়।

বিশেষ করে বলে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে আরও গুরুত্ব দিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করা।

সংবাদ সম্মেলনে শেষ দিকে বলে থাকেন, সকলের জরুরি দায়িত্ব যেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করে সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা যায়।