ঢাকা | বুধবার | ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড নির্ধারণ করবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট: প্রধান উপদেষ্টা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশে ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই মন্তব্য তিনি বুধবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাতে উভয় পক্ষ নিকটবর্তী সাধারণ নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমোদিত শ্রম আইন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক চুক্তি, এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। অধ্যাপক ড. ইউনূস ঐ কৃষিকাজের আর্থিক, নীতিগত ও পর্যবেক্ষণের বিষয়ে উল্লেখ করেন, পাশাপাশি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে ইতিবাচক ধারনা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচনটি হবে উৎসবের মতো, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে। সরকার ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সম্পন্ন করতে পুরোপুরি প্রস্তুত বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও এই নির্বাচনে পর্যবেক্ষণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ। তিনি দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শুভকামনা জানান। পাশাপাশি, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, যেখানে কেউ জয় লাভ করুক না কেন, তিনি ফলাফল গ্রহণ করে দেশের জন্য কাজ করতে আগ্রহী। তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন। মার্কিন সরকারের নতুন শ্রম আইনের প্রশংসা করে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অধ্যাপক ড. ইউনূস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য তিনি কৃতজ্ঞ, যা চলমান বাণিজ্য আলোচনা চালু রাখবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তাও প্রশংসিত।

বলা হয়, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ আসিয়া সদস্যপদ লাভের জন্য কাজ করছে এবং ইতিমধ্যে আঞ্চলিক সংলাপে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছে। তিনি পূর্বের ১৮ মাসে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ ও অর্থনীতিকে কাছাকাছি আনার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাতে মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা, যা বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপ করা হয়েছে, এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন ড. খলিলুর রহমান ও লামিয়া মোর্শেদ।