ঢাকা | | | |

অপ্রাপ্তির বেদনায় না ফেরার দেশে অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ

পোশাকী সিনেমার শতভাগ জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস জাভেদ আজ সকালে অপ্রাপ্তির মধ্যেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। ৮২ বছর বয়সে নিজ বাসায় মারা যান এই অভিনেতা। পরে তাকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইলিয়াস জাভেদ নিজ বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে উত্তরার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে স্ত্রী ডলি চৌধুরী জানান, বুধবার সকালে তার স্বামীর শারীরিক অবস্থায় গুরুতর অবনতি দেখা দেয়। কিছুদিন ধরে হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসা চলছিল। হাসপাতালে নেওয়ার সময় নার্সরা বলেছিলেন, পুরো শরীর ঠান্ডা। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে নেওয়া হলে হাসপাতালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইলিয়াস জাভেদের জানাজা এফডিসিতে ও পরে উত্তরার একটি কবরস্থানে সম্পন্ন করা হয়। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরিস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতিসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের 여러 সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে।

নৃত্য পরিচালক হিসেবেই শিল্পজগতে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও জাভেদ একজন জনপ্রিয় অভিনেতাও ছিলেন। মধুমিতা মুভিজের ব্যানারে নির্মিত ‘নিশান’ ছবিতে দ্বৈতচরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে নস্টালজিক ছোঁয়া রাখে। ষাটের দশকে তিনি নৃত্য পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন; কায়সার পাশার পরিচালনায় উর্দু সিনেমা ‘মালান’ ছিল তাঁর নৃত্য পরিচালনার প্রথম কাজ।

তার চলচ্চিত্রজীবনে ‘মালকা বানু’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘শাহজাদী’, ‘নিশান’, ‘রাজকুমারী চন্দ্রবান’, ‘কাজল রেখা’, ‘সাহেব বিবি’ ইত্যাদি জনপ্রিয় ছবিতে তিনি কাজ করেছেন, যা বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে।

এফডিসিতে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সহকর্মীরা—মেগাস্টার উজ্জ্বল, চিত্রনায়ক আলমগীর, ওমর সানী, শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, দেওয়ান নজরুল, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু, সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন, চিত্রনায়িকা মুক্তি প্রভৃতি।

চলচ্চিত্রে নৃত্য ও অভিনয়ের মাধ্যমে যেভাবে তিনি সময় পার করেছেন, তা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি আলাদা অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় থাকবে। তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও অনুরাগীদের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি।