ঢাকা | বুধবার | ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

গভর্নরের সতর্কতা: সব দুর্বল ব্যাংক একসঙ্গে ঠিক করা সম্ভব নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে সব দুর্বল ব্যাংকের সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি বুধবার (২১ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, কিছু ব্যাংক খুবই দুর্বল ছিল, যার ফলে তাদের টাকা ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনো টাকা ঘাটতি থাকায় একসঙ্গে সব ব্যাংককে ঠিক করা সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে সরকারি ব্যাংকগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করার পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অতিরিক্ত ঋণখেলাপি সমস্যা মোকাবিলায় তিনি জানান, ব্যাংকগুলো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না, যদি তাদের ঋণখেলাপি শতভাগ কাভারেজ না থাকে। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এড়ানোর বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণখেলাপির হার ৩০ শতাংশে নামানোর উদ্যোগ নিচ্ছে এবং পরবর্তী মার্চে তা ২৫ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা আছে।

গভর্নর আরও বলেছেন, সরকার গুরুত্বপূর্ণ দুটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক রেখে বাকিগুলোর মার্জ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি মত প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের জন্য ১৫টির বেশি ব্যাংক দরকার নেই। আগামী দুই থেকে তিন বছরে ১২-১৩টি ব্যাংক চালু বা পুনর্গঠিত করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক রেজুলেশন ফার্ম করার প্রক্রিয়া চালুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর জন্য একটি ফান্ড গঠন করা হবে, যা সংকটের সময় সরকারের আশ্রয় নির্ভরতা কমাবে।

অন্যদিকে, গভর্নর ব্যাংকিং খাতে ব্যক্তির কেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের প্রভাব থেকে রক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিতের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতি, অনিয়ম, পরিবারতন্ত্র এবং দুর্বৃত্তায়নের কারণে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা ব্যাংক খাত থেকে বেরিয়ে গেছে, যা হয়ত পাচারও হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটি পুরোপুরি স্বাধীন নয়, তবে কার্যক্রমে স্বাধীনতা আছে। ভবিষ্যতে ব্যাংককে আরো স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শেষেরদিকে, তিনি বলেন, ক্যাশের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি কমাতে হলে দেশের সবখানে ক্যাশলেস সিস্টেম আনয়ন জরুরি, যার ফলশ্রুতিতে বছরে রাজস্বের পরিমাণ দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা বাড়তে পারে।