ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শুল্ক কমানো হয়েছে, এনইআইআর বন্ধ হবে না: ফয়েজ তৈয়্যব

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্কের পরিমাণ যৌক্তিক পর্যায়ে নামানো হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বা অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া কোনওভাবেই বন্ধ করা হবে না।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কথা জানান তিনি। এ সময় বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনা ও তার বিচারের দাবি তোলেন তিনি।

ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, মোবাইল ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মোবাইল ফোন আমদানির শুল্কহার কমিয়েছে। এছাড়াও কর ফাঁকি দিয়ে আনা হ্যান্ডসেট বৈধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এসব উপায় সত্ত্বেও কিছু দোকানপাট বন্ধ রেখে সড়ক অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, যা তিনি ন্যায়সঙ্গত নয় বলে উল্লেখ করেন।

তিনি নিজে বিটিআরসি ভবন পরিদর্শন করেন এবং সংস্থাটির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, ভাঙচুরের কারণে কত পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে রবিবার কারওয়ান বাজারের মোড়ে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও টিয়ার গ্যাসের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

বেলা ১:৩৫ এর পরে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয় এবং পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ, সেনা এবং র‍্যাব সদস্যরা মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সাতটি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

আজকের সকালেই কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে মোবাইল ব্যবসায়ীরা। পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান ও অন্যান্য অস্ত্রের মাধ্যমে তাদের সরিয়ে দেয়। পরে কিছু বিক্ষোভকারী আটক হয় ও তাদের আশপাশের শপিংমলে সরিয়ে নেওয়া হয়।

মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) জানিয়েছে, এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ ও বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারকদের মুক্তি। সংগঠনের পক্ষ থেকে অবৈধ দোকান বন্ধের পাশাপাশি সারা দেশে অত্যাবশ্যকভাবে সব মোবাইল ফোনের দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সকাল সাড়ে ১০টার সময় শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে বসুন্ধরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে।

সরকারের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর কার্যকর করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কের সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেসে যুক্ত হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই মোবাইল ব্যবসায়ীরা এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছেন।