ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে সকাল ৬টা দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এবং সবশেষবারের মতো তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতি শেয়ার করেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক বিশেষ সভায় তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল ২১ নভেম্বর, সশস্ত্র বাহিনী দিবসে। সে দিন তিনি অত্যন্ত উৎফুল্ল ছিলেন।
ড. ইউনূস আরও জানান, তিনি (খালেদা জিয়া) অনেকগুলো ঘণ্টা ধরে তাঁর সঙ্গে গল্প করেন। তাঁর স্ত্রী ও নিজের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। যদিও তিনি নিজে অসুস্থ ছিলেন, তবে স্বাস্থ্যের বিষয়ে তাঁর উদ্বেগ ছিল খুবই গভীর। তিনি সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যখন সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজন, তখন তাঁর উপস্থিতি আমাদের জন্য অমূল্য ছিল। তাঁর চলে যাওয়া দেশের জন্য বিরাট একটি ক্ষতি।
তিনি আরও বলেন, পুরো জাতি খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করছিল যাতে তিনি আরও অনেক বছর আমাদের সঙ্গে থাকতে পারেন। আমরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। পাশাপাশি, তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। সম্ভাব্য সব সহায়তা সরকার দেবে তাঁর দাফন ও জানাজার জন্য।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৬ বছর শাসনামলে খালেদা জিয়া নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কারা囚ে ছিলেন, চিকিৎসার কোন সুjemনা তিনি পাননি। ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। করোনার সময় শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও গুলশানের বাসায় বন্দি ছিলেন।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসার অভাবে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতা সহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় তাঁর।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। এটি পরিণত হয় সরকারের পতনের দাবিতে। টানা ৩৫ দিন রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পরে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। ওইদিন, ৬ আগস্ট তারিখে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন।
এরপর, উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান তিনি। ১১৭ দিন পর ৬ মে দেশে ফেরেন। তাঁর স্বাস্থ্যে অনেক উন্নতি হলেও নানা রোগের জটিলতা এবং বয়সের কারণে দুর্বল হয়ে পড়েন। বারবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
সবশেষ, ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং প্রায় এক মাসের বেশি সময় সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।









