ঢাকা | সোমবার | ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

লিবিয়া থেকে আরও ১৭৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন

লিবিয়ার তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। আগামী সোমবার (১ ডিসেম্বর), তাদের দেশে ফিরতে সহায়তা দেবে বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত অনেক বাংলাদেশিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, এবং অনেকের প্রাথমিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।

বাহ্যিকভাবে জানানো হয়েছে, লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ২৬ নভেম্বর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তারা আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা খতিয়ে দেখেন। এ সময় তারা বাংলাদেশিদের উদ্দেশে সতর্ক করে বলেন, অবৈধ পথে বিদেশে গিয়ে মানবপাচারকারীদের হাতের শিকার হওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এবং এর ফলে তারা কতটা বিপদে পড়তে পারেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে অনেকেই সাগরে জীবন risking করে বেঁচে ফিরেছেন, যা সত্যিই প্রাথমিক ভাগ্য বলে বিবেচনা করতে পারেন।’

তিনি আশ্বস্ত করেন যে, দূতাবাস দ্রুততম সময়ে তাদের সবাইকে দেশে ফিরানোর জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত হয়েছে, এবং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী ৩০ নভেম্বর আইওএমের সহায়তায় ১৭৫ জনের ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আটক বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা অন্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার উৎস হয়ে উঠতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি এড়ানো যায়। এর পাশাপাশি তিনি মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উপরও জোর দেন।

প্রতিনিধিদল জানান, আইওএমের সহযোগিতায় ধাপে ধাপে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে, এবং এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য দূতাবাস একনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। পরিদর্শনকালে, দূতাবাসের পক্ষ থেকে উপস্থিত অভিবাসীদের জন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণও করা হয়।

সাথে তারা তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন ও মানবিক সহায়তা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের উদ্ধারকাজে তাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।অন্তবর্তী এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা করা হয়, দ্রুততম সময়ে দেশপ্রস্থানকারী সকল বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।