ঢাকা | শনিবার | ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ভূমিকম্প কিয়ামতের সংকেত: ইশারা দেয় ক্ষমতা ও দুর্বলতার

ভূমিকম্প মহান আল্লাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এটি মানুষের চোখে আল্লাহর অপরিসীম শক্তি ও ক্ষমতার প্রকাশ। অন্যদিকে, এটি আমাদের অক্ষমতা, দুর্বলতা ও মুখাপেক্ষিতা মনে করিয়ে দেয়। এ ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় মানুষকে সতর্ক করে দেয় যে, সবকিছুর পেছনে একমাত্র কর্তৃত্বশীল মহান আল্লাহ। আল্লাহ তাআলা সূরা আনআমের ৬৫ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করেছেন, “বল, তিনি তো সক্ষম তোমাদের ওপর থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নীচ থেকে আজাব পাঠাতে পারেন।” (সুরা আনআম: ৬৫) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিররা বলছেন, এর মানে ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প, নদীর পানি বৃদ্ধি বা অন্যান্য দুর্যোগের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের উত্তম সতর্কতা দিচ্ছেন। সাহাবা জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয়, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি,’ কারণ আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের ওপর থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম।’ কুরআনে ভূমিকম্প বা জিলজাল নামে একটি সূরা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যখন পৃথিবী প্রচণ্ড কম্পন করবে, তখন সব কিছু তার বাইরে নিক্ষেপ করবে। মানুষ তখন জিজ্ঞেস করবে, ‘এর কী হলো?’ সেইদিন পৃথিবী তার বৃত্তান্ত প্রকাশ করবে, যা আল্লাহর নির্দেশে হবে। তখন মানুষ বিচ্ছিন্নভাবে বের হয়ে আসবে যেন তারা তাদের কৃতকর্মের ফিরিস্তি দেখতে পারে। যারা ছোট বা বড় সব ধরনের ভালো বা মন্দ কাজ করবে, তারা তার ফল দেখবে। প্রকৃতিক দুর্যোগ ও বিপদে আমাদের উচিত আল্লাহকে স্মরণ করা, তাঁর কাছে বিনীত হয়ে আশ্রয় চাওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, এরূপ পরিস্থিতিতে আমি বহু নবী পাঠিয়েছি। তাদের ওপর ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও রোগব্যাধি চাপিয়ে দিয়েছি, যেন তারা নম্রতা ও বিনয় গ্রহণ করে। কিন্তু তারা বিনীত হয়নি; হৃদয় কৃপণ ও নিষ্ঠুর হয়ে গিয়েছিল। তারা যা শিখেছিল, তা ভুলে গিয়ে শয়তানের প্ররোচনায় লিপ্ত হয়েছিল। তখন আমি তাদের ওপর সমস্ত দরজা খুলে দিই, আর যখন তারা আমার দেয়া উপকরণে খুশি হলো, আমি হঠাৎ তাদের পাকড়াও করি, ফলে তারা হতাশ হয়ে পড়ে। এভাবেই আল্লাহর ক্রোধান্বিত ও সতর্কতা আমাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার উৎস। তাই, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা দুর্যোগের সময় আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে দোয়া ও আশ্রয় প্রার্থনা করা।