ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৬ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সারাদেশে একযোগে শান্তিধাম লালন উৎসবের উদযাপন

লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবসের স্মরণে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সব জেলায় একসঙ্গে লালন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এই উৎসবের মাধ্যমে লালনের দর্শন, গান, এবং সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা সৃষ্টি হচ্ছে, যা সংস্কৃতি প্রেমীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় আজ (১৭ অক্টোবর) থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় তিন দিনব্যাপী লালন উৎসব পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি, ঢাকায় ১৮ অক্টোবর একটি বড় মেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তে লালনের আদর্শ ও সংগীতের মহান ধারা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

কুষ্টিয়ায় এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সেখানে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান গবেষক ও লেখক প্রফেসর গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ. আল মামুন। এই অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী বিখ্যাত বাউল ও ফকিররা অংশগ্রহণ করে গান পরিবেশন করবেন।

উদ্বোধনী দিন ছাড়াও ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর সারাদেশের বিভিন্ন শহরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে শিল্পীরা মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপভোগ করবেন।

আগামীকাল, ১৮ অক্টোবর, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বড় একটি লালন মেলা ও উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এখানে বিভিন্ন শিল্পী, ব্যান্ড ও গানের দল লালনের গান পরিবেশন করবেন, যার মাধ্যমে লালনের গভীর দর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরো দৃঢ়ভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

প্রথমবারের মতো, এই উৎসবটি দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে একযোগে পালিত হচ্ছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশে লালনের গৌরব ও ঐতিহ্য আরো দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।