ঢাকা | বুধবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

তেলের দাম বেড়েছে, চাল ও সবজির দাম কমছে পুরান মতোই

খুচরা বাজারে ভোজ্যতেলের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কয়েক মাসের মধ্যে চালের দাম সামান্য নিম্নমুখী হয়েছে, যার পেছনে মূল কারণ হিসেবে ভারতের থেকে চালের আমদানি বেড়ে যাওয়া দেখছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে, চড়া সবজির দাম কিছুটা কমলেও সেটি এখনো স্বস্তিদায়ক স্তরে পৌঁছায়নি। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনে এ চিত্র দেখা গেছে।

অপরদিকে, গত সপ্তাহে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীরা করলেও সরকারের পক্ষ থেকে তা নাকচ করা হয়। এর ফলে বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তেলের দাম বেড়েনি, তবে সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো দাম کمানোর চেষ্টা করে কমিশন কেটে দিয়েছে, ফলে বাজারে বেড়েছে খোলা সয়াবিন ও সুপার পাম অয়েলের দাম। গত কয়েক দিনের মধ্যে এই দুই ধরনের তেলের দাম লিটারে প্রায় পাঁচ টাকা করে বেড়েছে।

খুচরা পর্যায়ে এখন প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়ে উঠেছে ১৭০ থেকে ১৭২ টাকায়, আর পাম অয়েলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা। চার দিন আগে এ দাম ছিল যথাক্রমে ১৬৯ ও ১৫০ টাকা।

এদিকে, চালের বাজারে ভারত থেকে সরু নাজিরশাইল ও মোটা চাল আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে। এখন বাজারে প্রতিজেড়ি নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৮৪ থেকে ৮৬ টাকায়, যা আগে ছিল ৯০-৯২ টাকা। অন্যদিকে, মোটা পায়জাম ও স্বর্ণা জাতের চালের দাম ৫৬ থেকে ৬০ টাকা যা কেজিপ্রতি ৪-৫ টাকা কমেছে। তবে মিনিকেট চালের দাম আগের মতোই ৭৮ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সেগুনবাগিচার সজিব রাইস এজেন্সির কর্ণধার সালমান হোসেন বলেন, “ভারত থেকে প্রচুর চাল আসছে, তাই দাম কমছে। তবে দেশি মিনিকেটের দাম এখনও অপরিবর্তিত। যদি আরও বেশি চাল আমদানি হয়, তবে দাম আরও কমে যেতে পারে।”

রামপুরা ও খিলগাঁও বাজারে দেখা গেছে, সবজির দাম কিছুটা কমলেও এখনো স্বস্তি আসেনি। বেশিরভাগ সবজির দাম ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে সবজির দাম কিছুটা বেশি হয়েছিল, ৮০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। এখন প্রতি কেজি পটল, ঢ্যাঁড়শ ও ঝিঙার দাম হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, আর করলা, বেগুন, বরবটি, চিচিঙা কিনতে খরচ হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তবে, পেঁপে ৪০ টাকা ও আলু ৩০ টাকায় কেনা যাচ্ছে।

বাজারে এখনো মুরগি ও ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, আর সোনালি জাতের মুরগির দাম ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়।