ঢাকা | শুক্রবার | ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৪শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

মমতা ব্যানার্জীর কেন্দ্রের সংস্কার ও বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে দেশের গরিব মানুষদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। মমতা বলেন, এই ধরনের অপপ্রচার এবং অত্যাচার বাংলার সাধারণ মানুষের মুক্তির জন্য ভয়ঙ্কর অশুভ শক্তির চেহারা।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) কলকাতার এক সভা থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের নানা জনের নাম করে আক্রমণ করেন। মোদী, অমিত শাহের পাশাপাশি তিনি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওপরও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় ইদানীং কমিশনের দাপাদাপি বাড়ে, যা স্বাধিকার এবং গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

মমতা আরও বলেন, রাজ্যপালদের টাকা বন্ধের নির্দেশে তার দল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি তা চালু করে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের কিছু হিংসুটে কুচক্রীমহল সরকারি প্রকল্পের নামে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাঁর দাবি, বাংলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের হিংসা এবং অপপ্রচার আরও বাড়ছে।

মমতা জাতীয় নির্বাচন কমিশনকেও সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের সময় ইজেন্টিগুলি বেশি শক্ত হয়ে যায়, যা সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, আমি অনেক প্রধানমন্ত্রী দেখেছি, এবার একটি বই লিখবো তাঁদের সত্য ঘটনা নিয়ে।

বিনোদনের অংশ হিসেবে মমতা বলেন, ছোটবেলায় ললিপপ খেলে ভাল লাগে কিন্তু বড়রা যদি এ কাজ করে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় বলেন, কেন কলকাতা ছিল বাংলার রাজধানী, তা ইংরেজরা বুঝত যে, বাংলার সঙ্গে তাদের লড়াই পেরোতে বাংলার শক্তি খুবই প্রখর। এই কারণেই তারা কলকাতা থেকে রাজধানী স্থানান্তর করে দিল্লি।

অ্যাজেন্সি ও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে মমতা বলেন, অমিত শাহের পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ করে তিনি জানান, তার ছেলে ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হওয়ার মত ঘটনা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। তিনি অভিযোগ করেন, কৌশলে অনেক সহকর্মী কারার মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, এই পরিবারতন্ত্র বিজেপির প্রধান কৌশল, যা দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

শেষে, মমতা অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার গরিবের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে এবং তাদের ওপর বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে অত্যাচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, গরিব মানুষ আমার হৃদয়ে স্থান পায়, তারা দেশের মূল শক্তি। তিনি এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান চান ও বাংলার মানুষের অধিকার ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।