ঢাকা | | | |

সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কমিটি গঠনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে সরকার: চীফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ও অর্থমন্ত্রী মনিরুল ইসলাম বলেছেন, আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিরোধী দল থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বুধবার (২৬ আগস্ট) সংসদ ভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। চীফ হুইপ আরও জানান, এই অধিবেশনটি সম্ভবত ৫, ৭ বা ১০ দিন স্থায়ী হবে, তবে প্রয়োজন হলে মেয়াদ বাড়ানো হবে। তিনি আরও বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে, এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত বিলগুলি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে। সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিবরণে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলে, তাঁরা জীবিত থাকাকালীন ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহার অধিকার বজায় থাকব। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর বিষয়ে বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধ করা সম্ভব হবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় জনগণ নির্বাচনী ইশতেহার দেখেই ভোট দিয়েছেন এবং তাঁদের আস্থায় সংসদে এসেছে। সেই আস্থার ভিত্তিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন বা বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। তিনি জানান, সংবিধানের একটি কমা বা দাঁড়ি পরিবর্তনও সংবিধান সংশোধনের অংশ। জুলাই সনদের চুক্তিতে দক্ষিণ প্লাজায় সব রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে যা অঙ্গীকার করে স্বাক্ষর করেছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে বিএনপি থেকে ৭ জন, জামায়াত থেকে ৫ জন ও অন্যান্য ছোট দল থেকে একেকজন করে সদস্য থাকবেন। সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো বিরোধী দলের দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল সংসদের বাইরে অস্থিরতা সৃষ্টি না করে জনগণের সমস্যা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরবে। তিনি আরও বলেন, “সংসদের বাইরে আন্দোলন করে আবার স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়া হবে না।” দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, জেল-গুম ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যে অর্জন হয়েছে, সেটি অন্য কারো হাতে তুলে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। চলমান সংকট মোকাবিলায় সময়ের দরকার রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো সরকার ছয় মাসে দীর্ঘদিনের সব সমস্যা সমাধান করতে পারেন না। বিদ্যুৎ চুক্তি ও বিদ্যুৎখাতে বিগত সরকারের ভুলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু চুক্তি দায়মুক্তির মাধ্যমে করা হয়েছে, ফলে সেগুলোর প্রশ্ন ওঠা কঠিন হয়েছে। তিনি বিশেষ করে আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তিকে ‘গর্হিত অপরাধ’ বলে আখ্যায়িত করেন। এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশ উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য হচ্ছে, যা দেশের স্বার্থে না। তিনি জানান, তৃতীয় অধিবেশনের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি, ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংসদ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।