দীর্ঘ ৩২ বছর পর কুমিল্লা বিমানবন্দর আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যতম প্রবাসী অধ্যুষিত এই জেলা আবারও আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে সচল করার পরিকল্পনায় স্থান পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হলে এখান থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে। যদিও গত তিন দশক ধরে এই বিমানবন্দরে কোনও বিমান ওঠানামা না করলেও এর প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল থাকায় সরকারি রাজস্ব আদায় অব্যাহত রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, রানওয়ে কার্পেটিং, ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়ন এবং আধুনিক ভিওএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করলে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো বড় বাধা থাকবেনা। সরকার দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে, পর্যটন বিকাশে, বিনিয়োগ বাড়াতে ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে আটটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর পুনরায় চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে কুমিল্লা বিমানবন্দরও রয়েছে। কুমিল্লাকে দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়; পূর্বের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই জেলার ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬৬১ জন বৈধভাবে বিদেশে কর্মক্ষেত্রে গিয়েছেন। একই সময়ে সারাদেশে যান ৭৭ লাখ ৬৮ হাজার ৩৪৯ জন এবং তার প্রায় ৯ শতাংশই কুমিল্লার। বছরভিত্তিক অনুপাত অনুসারে, ২০১৫ সালে ৪০ হাজার ৫২৫ জন, ২০১৬ সালে ৮৬ হাজার ৩৩৫ জন, ২০১৭ সালে ১ লাখ ৪ হাজার ৭০৯ জন, ২০১৮ সালে ৬২ হাজার ৪৪৫ জন, ২০১৯ সালে ৬৫ হাজার ৯৪১ জন, ২০২০ সালে ২৪ হাজার ১৮৯ জন, ২০২১ সালে ৬৮ হাজার ১৬৭ জন, ২০২২ সালে ১ লাখ ৬ হাজার ৪৯৯ জন, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৫১ জন এবং ২০২৪ সালে ৯২ হাজার ১০০ জন বিদেশে গিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুমিল্লা বিমানবন্দর পুনরায় চালু হলে প্রবাসীদের জন্য যাত্রা আরও সহজ হবে, পাশাপাশি জেলাটির শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এই উদ্যোগ ঢাকা বিমানবন্দরের ওপর পর্যটকদের চাপ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ইয়েমেনের অনারারি কনসাল জেনারেল, টিএএস এভিয়েশন গ্রুপের সভাপতি, শাহ গ্রুপ ও বক্কাহ হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কেএম মুজিবুল হক বলেন, ‘কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু হলে শুধু কুমিল্লা নয়, পুরো বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের অর্থনীতি, শিল্প-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত সূচনা হবে। দেশের অন্যতম প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। আমি নিজে মুরাদনগর উপজেলার সন্তান, তাই এই বিমানবন্দর চালু হওয়া আমার জন্য বিশেষ গর্বের বিষয়। সরকারের এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।’ আগামী দিনগুলো এই পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে থেকে আগামীর উন্নয়নের পথে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লা বিমানবন্দর।









