ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ককে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, সংগীত এমন এক অনন্য সেতুবন্ধন, যা দু দেশের মানুষকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ব্যান্ড ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের ‘ট্রপিক লাইটনিং’ ব্যান্ডের যৌথ সাংগীতিক পরিবেশনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বাংলাদেশের বিমানবাহিনী ব্যান্ড এবং মার্কিন সেনাদের এই সংগীতানুষ্ঠান রাজধানীর বিমানবাহিনী জাদুঘরে আয়োজন করা হয়, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ‘ফ্রিডম ২৫০ আমেরিকা সপ্তাহ’ এর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আমাদের ভালো বন্ধু ও অংশীদারদের সঙ্গে এই আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’ তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সামরিক সংগীতশিল্পীরা বিশ্বের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ কূটনীতিক, কারণ তারা সংগীতের মাধ্যমে সব ভাষার বাধা অতিক্রম করে যোগাযোগ স্থাপন করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, বিমানবাহিনী জাদুঘরকে এই অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে কারণ এটি দুই দেশের বিমানবাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক। রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই ব্যান্ডের সদস্যরা প্রথমবারের মতো একসঙ্গে পরিচিত হলেও, সংগীতের মাধ্যমে তারা দ্রুত সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন। এই যৌথ পরিবেশনা প্রমাণ করে, আমাদের সামরিক বাহিনী ও জনগণের মধ্যে দ্রুত সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা দুই দেশের জন্যই কল্যাণকর। ক্রিস্টেনসেন বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় সংবেদনশীল সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তোলে, এবং শেখায় যে শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নয়, বরং জনগণের সম্পর্কই মূল। তিনি এই মানবিক সম্পর্ককে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সব ধারার সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। শেষদিকে, তিনি এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে, আগামী নানা আয়োজনের জন্য উৎসাহ দেন এবং বাংলাদেশের জনগণকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যরা, আমন্ত্রিত নাগরিক ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।









