ঢাকা | | | |

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির তদন্ত জরুরি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যমুনার নদীর অদূরে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এই সময়ে দেশজুড়ে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা খুব জরুরি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিতে যেন এই ১৮ মাসের অন্ধকারাময় সময়ের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়। ওই তদন্তের রিপোর্ট যদি প্রকাশ করা হয়, তবে জাতির সামনে সত্যটা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।ultur

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও লুটপাটের দৌরাত্ম্য ছিল সাধারণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। বিভিন্ন প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যাংকের লোন স্ক্যাম এবং আইনি মোড়কে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এসব অপকর্মের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ছিল কংগ্রেসের আইনি মেথডে দুর্নীতির চক্র, যেখানে আইন ও বিধিনিষেধের ছদ্মবেশে কার্যক্রম চালানো হতো। সমাজে নানা অস্থিরতা, দুর্নীতি ও অর্থ অপচয় রোধে বর্তমান সরকারের গুরুত্বর দৃষ্টিতে একান্ত প্রয়োজন এই বিষয়গুলো তদন্ত ও সামাধান।

তিনি অতীতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে গণতান্ত্রিক জবাবদিহির অভাবে লুটপাট ও ক্রোনি ক্যাপিটালিজম বেড়ে যায়। প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সামগ্রিক ১৫ বছরে প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের ঋণ স্ক্যাম, রাজনৈতিক দখলদারিত্ব, ও মেগা প্রকল্পের নামে অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি আইনি অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব অপকর্মের অন্যতম কৌশল ছিল আইনি বলয়ে দুর্নীতির লেজিসলেটিভ ম্যানিপুলেশন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত সময়ের এই অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দুর্নীতির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য এক বিশ্লেষণী বাজেট পেশ করেছে। এই বাজেটে দেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক নীতির নির্দেশনা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই বাজেটকে ‘নতুন অর্থনৈতিক আদর্শের বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি জানান, প্রথম থেকেই সরকারের লক্ষ্য ছিল স্বচ্ছতা ও সচ্ছলতা বজায় রাখা। সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দসহ বিভিন্ন সামাজিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বাজেটের মূল ভিত্তি হলো উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং স্মার্ট রূপান্তর। তিনি উদাহরণস্বরূপ সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ ও ড. গোহের সফল মডেল দেখিয়ে বলেছিলেন, সীমিত সম্পদ সর্বোচ্চ ব্যবহারে আগ্রহী হলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। তিনি আরো উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থনীতির রূপ দেওয়ার জন্য এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের বাস্তবায়ন বা সংস্কারে নতুন পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নে এ বাজেট অবদান রাখবে, এবং স্বচ্ছতা ও সম্মিলিত সহযোদ্ধার মাধ্যমে এ বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব।