ঢাকা | মঙ্গলবার | ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস নেতৃত্ব ও দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশি তরুণদের প্রশিক্ষণে উদ্যোগ

ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক ও নেতৃত্বশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে চার দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করে, যেখানে ৬০ জন বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী দক্ষতা অর্জন করেছেন যোগাযোগ, নেতৃত্ব এবং দর-কষাকষি (নেগোশিয়েশন) ক্ষেত্রে। এই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া তরুণেরা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক শ্রমশক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ।

প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে রবিবার গুলশানের একটি হোটেলে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, এই তরুণেরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দর-কষাকষির ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করেছেন এবং তারা বাংলাদেশের নেতৃত্বের নতুন প্রজন্ম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রশিক্ষণটি মার্কিন ইংরেজি ভাষা বিশেষজ্ঞ জোয়ান মুনিস্টেরির সহায়তায় আয়োজিত হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের ‘অ্যাকসেস ইংলিশ’ কর্মসূচির ৬০ জন সাবেক শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাঠ্যক্রমে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’ বইয়ের মূলনীতি, পাশাপাশি দর-কষাকষি, যোগাযোগ ও নেতৃত্ব উন্নয়নের মার্কিন পদ্ধতি।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, তারা একজন সফল চুক্তি কৌশলকারীর মতো শেখে নি, বরং বিশ্বসেরা নেতাদের মতো দর-কষাকষির কৌশল গ্রহণ করেছে। তিনি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও দর-কষাকষির পদ্ধতি বোঝার জন্য বইটি পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি, ট্রাম্প বইটিতে বর্ণিত নীতিগুলোই অনুসরণ করছিলেন।’

ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেন, এই প্রশিক্ষণে শেখানো মূল কৌশলগুলো মার্কিন পদ্ধতি ভিত্তিক, যার মধ্যে রয়েছে প্রস্তুতি, স্পষ্ট যোগাযোগ, কৌশলগত চিন্তা, পারস্পরিক লাভজনক দিক এবং বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বলেন, সফল দর-কষাকষি মানে শুধু চুক্তি সম্পাদন নয়, বরং আস্থা গড়ে তোলা, সমস্যা সমাধান এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পেশাজীবীর সম্পর্ক আরও জোরদার করবে। এছাড়া, তিনি প্রশিক্ষক ও তরুণদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের নিজের কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে অর্জিত দক্ষতা প্রয়োগের জন্য উৎসাহ দেন।

অंतিমে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, আপনি শেখা দক্ষতাগুলো অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেবেন।’ মার্কিন দূতাবাস জানায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দুদেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গভীরতর করার লক্ষ্য রয়েছে।