মারা গেছেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক তরুণী। রবিবার সকালে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই দুলালীর জীবন রক্ষায় নানা প্রচেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
দুলালীর খোঁজে বের হন মিরপুর-২ নম্বরের বাসিন্দা মুছা করিম রিপন। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, ওই তরুণীকে প্রথম দেখতে পান ২২ মে বারেক মোল্লা মোড়ে। তীব্র অপুষ্টি ও অনাহারে কঙ্কালসার অবস্থা তার। পাশে গিয়ে কথা বলার সময় তার পিঠের হাড়গুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। তখন তিনি কিছু দান করেন এবং দুলালীর জন্য সহানুভূতি জাগে। এরপর তাকে শ্যামলীর মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকেরা ওষুধ দিয়েও গুরুতর অবস্থার পরিবর্তন আনতে পারেননি।
অবস্থা দেখে অনেক হাসপাতাল ঘুরে তার চিকিৎসা চলতে থাকে। ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে যাওয়ার পরেও সফলতা মেলেনি। ওপরে ওপরে চিকিৎসার চেষ্টা চালিয়ে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নেওয়া হয়। সেখানেও পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেনি। পরে ফার্মগেটের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছু সময়ের জন্য সেখানে চিকিৎসা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুই দিনে আটটি হাসপাতালে নিয়ে এলে কোনো এক হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর বা চিকিৎসা শুরু করতে পারেনি। শেষে ধানমণ্ডির ফুটপাতের এক গুদামে মাথায় পলিথিন মুড়িয়ে রাখেন তাকে।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে গুরুত্ব পেলে সরকারের নজরে আসে। এরপর দুলালীর চিকিৎসার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (প্রতিমন্ত্রী) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও তাকে দেখতে যান। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা থাকলেও সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় এই দুর্বিসহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে এই ঘটনায় সকলে উদ্বিগ্ন। চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন tragedies এড়ানো যায়।









