ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছে ৮২ হাজার বন্দি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের ৭৪টি কারাগারে প্রায় ৮২ হাজার বন্দি উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ পালন করেছেন। এই বিশেষ দিনটি উদযাপনের জন্য কারাগারগুলোতে নানা রকম আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের উৎসবের মধ্যে রয়েছে জামাত, নানা ধরনের বিশেষ খাবার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অতিরিক্ত সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের সুযোগ।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোর ৮টায় বিভিন্ন কারাগারে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে কারা অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে। জামাত শেষে বন্দিরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এরপর তাদের জন্য পরিবেশিত হয় পায়েস ও মুড়ি, আর দুপুরের খাবারে ছিল পোলাও, রোস্ট, গরুর ও খাসির মাংস, চমচম, কোলা পানীয়, সালাদ ও পান-সুপারি। রাতের খাবারে রাখা হয় ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে ফ্রি জুস কর্নার, শিশুদের জন্য চকলেট ও চিপস বিতরণ এবং তাদের সঙ্গে অতিরিক্ত সাক্ষাৎ ও কথা বলার সুযোগ।

কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা কয়েকজন বিশিষ্ট বন্দির জন্যও এসব সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন সালমান এফ রহমান, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, আনিসুল হক ও জুনাইদ আহমেদ পলক। এছাড়াও, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারের জন্য কারাগারে থাকা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন ঈদের জামাতে অংশ নেন। তিনি পৃথিবীর বিশেষ কারাগারে পৃথক কক্ষে অবস্থান করছেন, কারণ তিনি রাজসাক্ষী হয়েছেন।

কারা সূত্র জানিয়েছে, ঈদের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হবে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং তৃতীয় দিনে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ। এ ছাড়া, ঈদের দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন যেন বন্দিরা পরিবার থেকে দেওয়া খাবার খেতে পারেন, একদিন আনডিউ সাক্ষাৎ ও সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিটের জন্য আনডিউ কথা বলার সুযোগও থাকছে।

প্রিয় দিনগুলোতে এই আয়োজনের মাধ্যমে বন্দিদের জন্য একটি উৎসবমুখর ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা তাদের মনোবল ও মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।