ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সরকারের ঋণ জটনা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দুর্নীতি, লুটপাট ও রাষ্ট্রের সম্পদ কেবল পাকিস্তানী শাসকশ্রেণীর হাতে থাকত। এই সময়ে জনগণকে ঋণের বোঝা আর অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি করে রাখা হয়েছিল। তবে এখন প্রধান লক্ষ্য হলো দেশকে এগিয়ে নেওয়া, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমে আধুনিক ও স্বচ্ছ সরকারের প্রতিষ্ঠা।

রবিবার (৩ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় ছিল, জনপ্রশাসন দুর্বল ও বিভাজিত। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ছিল না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা খারাপ ছিল, আর দেশের দরকার ছিল আমদানিনির্ভর অর্থনীতি, যা দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বৃদ্ধি করেছিল। নতুন কাজে সৃষ্টি হয়নি, ফলে কর্মসংস্থান কমে গেছে।

এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা দেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর মতে, কোন দেশই এই পরিস্থিতি থেকে অপসারিত হতে পারেনি, তবে সরকার স্থানীয় ও বৈদেশিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। জনগণের ভোগান্তি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রমাণ করেছে, যদি প্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করে, তাহলে জনমত প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া যায়। সকল পদে কর্মীদের সততা, দায়িত্ববান ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী দলমত নির্বিশেষে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিভিন্ন সেক্টরে কাজ শুরু হয়েছে যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নের জন্য সরকার সুদৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, সুশাসন সরকারের মূল ভিত্তি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়া, সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট রোধে বাজার তদারকি চালিয়ে যেতে হবে।

এছাড়াও, মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম আরও দৃঢ় ও নিয়মিত করার জন্য ডিসিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সরকার এখন সক্রিয়ভাবে সঠিক ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে নজর দিচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধ ও উন্নত করা সম্ভব।