ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

হজক্যাম্পে রিয়াল চুরির ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার

রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে হজযাত্রী দম্পতির সৌদি রিয়াল চুরির ঘটনায় পুলিশ সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তৎপরতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত যৌথ অভিযানে চুরি হওয়া মোট ২২ হাজার সৌদি রিয়ালের মধ্যে সাড়ে ১৭ হাজার রিয়াল ও ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হাবিবুর রহমান ও নাদিম।

শুক্রবার, ১ মে, আশকোনা হজক্যাম্পে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মির্জা তালেক আহমেদ বেগ, মতলব সার্কেলের এএসপি জাবীর হুসনাইন সানিইসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, ২২ এপ্রিল হজযাত্রী ইমান আলীর ব্যাগ থেকে ২২ হাজার সৌদি রিয়াল ও ১০ হাজার টাকা চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি, যিনি পাঞ্জাবি ও পাজামা পরিহিত ছিলেন, অভিনব কৌশলে টাকা চুরি করে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর ছেলে ঢাকার বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। তদন্তের জন্যে সিটি এসবির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। এর পর, মতলব, কুমিল্লার দাউদকান্দি, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও অন্যান্য এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাত ২:৪০ মিনিটে হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর স্টেশন রোড থেকে নাদিমকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে, তাদের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে চুরির মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুল মান্নানের দুটো বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ১৭,৫০০ সৌদি রিয়াল ও ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। তবে, অভিযুক্ত মান্নান এখনও পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হজযাত্রী দম্পতিকে সহযোগিতা হিসেবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ ব্যক্তিগতভাবে দুই হাজার রিয়াল সহায়তা দেন। তাদের সহায়তায় তারা নির্ধারিত ফ্লাইটে সৌদি আরব যান।

এছাড়াও, মূল অভিযুক্ত আব্দুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ভুক্তভোগী ইমান আলী, সৌদি আরবের মক্কা থেকে, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।