ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধানমন্ত্রী: ৩৭৮১৪ পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টাকা প্রদান

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জানান, নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রান্তিক এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের সহায়তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে, বর্তমানে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের নারী প্রধানকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এই ঘোষণা বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করছে, যেখানে নারী ও শিশু সবাই সমান অংশগ্রহণে উন্নত জীবন গড়বে। নারীর সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নানা কার্যক্রম চালু রয়েছে, যেমন: ভিন্ন ধরনের সাহায্য কার্যক্রম, গর্ভবতী ও শিশু পুষ্টি কর্মসূচি, ক্ষুদ্রঋণ, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইত্যাদি। নারীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধে বিভিন্ন আইন, ন্যাশনাল টোল ফ্রি হেল্পলাইন, ক্রাইসিস সেন্টার ও অন্যান্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ, নগদ সহায়তা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নানা পরিকল্পনা চলমান। এর অংশ হিসেবে, প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি করপোরেশনে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সহায়তা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলছেন, শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ। শিশু ও শিক্ষার উন্নয়নে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালু রয়েছে। পথশিশু পুনর্বাসন, শিশু শিক্ষা কেন্দ্র ও স্বাবলম্বী মা-ভারতীয় সহায়তার মাধ্যমে শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চলেছে। নারীদের জন্য শিশু দেখভালের কেন্দ্র, ডে-কেয়ার সুবিধা এবং ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা ও নদী ভাঙনের ঝুঁকি মোকাবিলা করতেই নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলাকে নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করতে কাজ চালানো হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে শেষ হবে জুন ২০২৭ নাগাদ। এছাড়া, উপকূলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য ও পুনর্বাসন কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধ ও সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সরকার সবসময় সচেষ্ট। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত তদারকি, দ্রুত সংস্কার, এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে যেন কোনো দুর্যোগে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।