শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ও সমকামীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনাটি শুধু একটি সহিংসতার খবর নয়, এটি একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক, পূর্বপরিকল্পিত প্রচারণা, মতাদর্শিক উসকানি এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বিত হামলার জটিল সমন্বয়।
শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে রাত ৮টার দিকে সংঘটিত এই হামলায় সমকামী ও তৃতীয় লিঙ্গের বেশ কয়েকজন ব্যক্তি আহত হন এবং নারীরা শ্লীলতাহানির শিকার হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা ভুক্তভোগীদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করছে এবং ধাওয়া করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করছে।
এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কারা এই হামলার নেপথ্যে ছিল, কীভাবে তারা সংগঠিত হলো, কোন মতাদর্শ তাদের চালিত করেছে, এবং কেন পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলো।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি: হামলার আগেই উসকানি ও সাংবাদিকদের ডাক
অনলাইনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১০ এপ্রিল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ‘আজাদী আন্দোলন’ নামধারী একটি প্ল্যাটফর্ম একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। প্রচারিত বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, প্রতি শুক্রবার শাহবাগে “সমকামী শ্রেণি” নাকি “আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে” জড়ো হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তারা এর আগেও দু’বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে এসব ব্যক্তিকে “উৎখাত” করেছে।
তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতিটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলঃ
“আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহ
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
১০/০৪/২০২৬
শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, (ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া, মাল্টিমিডিয়া, প্রিন্টিং মিডিয়াসহ সকল মিডিয়া)
বিষয়ঃ সমাজ ধ্বংসকারী সমকামীদের মুখোশ উন্মোচন প্রসঙ্গে মানববন্ধন
আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধা।ইতোমধ্যে আপনারা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, প্রতি শুক্রবার শাহবাগ হাদী চত্বরে অজানা কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে সমকামী শ্রেণি দলবেঁধে উপস্থিত হচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক কোনো উদ্দেশ্য হাসিল করতে কিংবা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীণ সামাজিক মূল্যবোধ ধ্বংসের কোনো নীলনকশা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী শাহবাগ হাদী চত্বরে উপস্থিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা আজাদীরা দুইবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে তাদের উৎখাত করতে সক্ষম হই।এরই ধারাবাহিকতায় আমরা সুকৌশলে সমাজবিরোধী ও আইনবিরোধী এই হীনকর্মীদেরকেও শাহবাগ হাদী চত্বর হতে বিতাড়িত করবো আজাদীর ধারাবাহিক এই দেশপ্রেমীয় কাজে আপনাদের উপস্থিতি সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজনীয়।
তারিখ ও সময়: ১০/০৪/২০২৬ (বিকাল ৭:০০,মাগরিবের নামাজের পরপরই) রোজ: শুক্রবার
স্থান : শাহবাগ হাদীচত্বর
অনুরোধে: মুহাম্মাদ শাহরীয়ার আলম (শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
মুখপাত্র, আজাদী আন্দোলন
01886917718 whatsapp”
অর্থাৎ তাঁরা ঘোষণা দেন যেঃ
- সন্ধ্যা ৭টায় শাহবাগ হাদীচত্বরে সমাবেশ এর আয়োজন করা হয়েছে
- “সমাজবিরোধী ও আইনবিরোধী সমকামীদের” বিতাড়নের ঘোষণা
- সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান
এই ভাষ্য শুধু উসকানিমূলক নয়। এটি হামলার পূর্বপরিকল্পনা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার স্পষ্ট প্রমাণ।
লাইভ সম্প্রচার: হামলার পুরো ঘটনাই প্রচারিত
রাত ৮টার দিকে ‘আজাদী আন্দোলন’-এর ব্যানার হাতে একটি মিছিল শাহবাগে প্রবেশ করে। এরপরই হামলার ঘটনা ঘটে। পুরো ঘটনাটি Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ সম্প্রচার করা হয়। লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলের সামনে থাকা ব্যানারে স্পষ্টভাবে ‘আজাদী আন্দোলন’ লেখা ছিল। উক্ত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করে নিচে দেওয়া হলঃ
এতে স্পষ্ট হয় ঘটনাটি ছিল সংগঠিত, পরিকল্পিত এবং জনসমক্ষে প্রচারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
লাইভ সম্প্রচার থেকে স্পষ্ট হয় যে এটি ছিল একটি পরিকল্পিত প্রচারণা। মূলত হামলাকে জনসমক্ষে প্রদর্শন করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।
আজাদী আন্দোলনঃ নামের আড়ালে কোন নেটওয়ার্ক?
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ‘আজাদী আন্দোলন’ মূলত বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের কর্মীদের দ্বারা সংগঠিত এবং পরিচালিত একটি সংগঠন। এই সংগঠনটির মুখপাত্র সহ প্রধান সকল কর্মীই মূলত খেলাফতে মজলিসের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের বর্তমান কিংবা প্রাক্তন কর্মী। এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াত এ ইসলাম ও তাদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের সাথেও রয়েছে অনেকের সম্পৃক্ততা। তাছাড়া ইসলামি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন মাদ্রাসার সাথে জড়িত থাকারও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আলী হোসেন তন্ময়ঃ শাহবাগে সংঘটিত হামলার পেছনে যাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল, তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম আলী হোসেন তন্ময়। তিনি ‘আজাদী আন্দোলন’-এর মাঠপর্যায়ের প্রধান সংগঠক হিসেবে পরিচিত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলাফত ছাত্র মজলিসের কোষাধ্যক্ষ। গত বছরের ‘জুলাই আন্দোলন’-এও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনায় খেলাফত মজলিস ও জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। হামলার দিনকার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি সামনের সারিতে থেকে মিছিল ও হামলার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তন্ময় দাবি করেন, “বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই গভীর এক আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। মূলত পশ্চিমা দেশগুলো আমাদের মুসলমান সমাজ ও মুসলমানদের একতাকে বিনষ্ট করে দেওয়ার জন্য সমকামিতার মতো ঘৃণিত বিষয়গুলো খুব সুকৌশলে আমাদের সমাজে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই সমকামীরা আমাদের সমাজের জন্য বিষফোড়া। আমাদের মুসলমানদের ইসলাম ধর্ম বলেন আর বাংলাদেশের আইন বলেন, সমকামীদের জন্য কোনভাবেই আমাদের দেশে জায়গা নাই। কিন্তু তারপরেও আমাদের সমাজকে নষ্ট করার জনই ইচ্ছে করে পশ্চিমা দেশগুলো ষড়যন্ত্র করে এই সমকামীদের আমাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে তরুণ সমাজকে নষ্ট করার পায়তারা করছে। এবং তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে আমাদের তথাকথিত কিছু বাংলাদেশি ব্লগার। দীর্ঘদিন ধরে সুব্রত শুভ, খায়রুল্লা খন্দকার, এমডি আরিফুল ইসলাম, শুভজিত ভৌমিক, নাদিয়া ইসলাম, এমডি রাসেল রাব্বি, ফড়িং ক্যামেলিয়া, নাফিউর রেজওয়ান, জয় বিশ্বাস, আসিফ মহিউদ্দিন, রাকিন আহমেদ সহ বেশ কিছু ব্লগার দেশ ও দেশের বাইরে থেকে ক্রমাগত অনলাইনে সমকামিতার পক্ষে লেখালেখি করে বাংলাদেশে সমকামিতাকে নরমালাইজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরা মূলত পশ্চিমাদের দালাল, তারা বাংলাদেশের মুসলমান সমাজ ব্যবস্থাকে বিনষ্ট করার জন্যই দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রান্ত করে আসছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে আমাদের এই দেশ ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ। এই দেশে সমকামীদের জন্য কোন জায়গা কোন দিন ছিল না, কখনওই হবেও না। আজকে তো তাদের অল্প করে আল্টিমেটাম দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি, সামনে তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে।”
তার এই বক্তব্য হামলার মতাদর্শিক ভিত্তি, উসকানির উৎস এবং সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।

মুহাম্মদ শাহরিয়ার আলমঃ তন্ময়ের পাশাপাশি আরেক গুরুত্বপূর্ণ নাম মুহাম্মদ শাহরিয়ার আলম, যিনি ‘আজাদী আন্দোলন’-এর মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি খেলাফত ছাত্র মজলিসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক এবং সিভিল এভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক। সংগঠনের প্রচারণা, সমাবেশ এবং হামলার দিনকার মিছিল সংগঠনে তার ভূমিকা স্পষ্ট।

মুহাম্মাদ মুঈন তালুকদার মাহিনঃ এছাড়া অনুসন্ধানে উঠে এসেছে মুহাম্মাদ মুঈন তালুকদার মাহিনের নাম, যিনি পল্লবী থানা খেলাফত ছাত্র মজলিসের সাবেক সভাপতি এবং বিভিন্ন মাদরাসা-সংযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন। ভিডিওতে তাকে হামলাকারী দলের সঙ্গে দেখা যায়।

মঈন হাসান সৌরভঃ একইভাবে মঈন হাসান সৌরভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী, অতীতেও মব সহিংসতায় নেতৃত্বদানের অভিযোগে পরিচিত। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত আদিবাসী ও ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী নিয়ে বিদ্বেষমূলক পোস্টের প্রমাণও পাওয়া গেছে।

শান্তনু বিশ্বাস সাগরঃ হামলার দিন সাংবাদিক পরিচয়ে উপস্থিত ছিলেন শান্তনু বিশ্বাস সাগর, যিনি নিজেকে কালবেলা ও গণকণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, তিনি মোবাইল সাংবাদিকদের ভুক্তভোগীদের দিকে ঠেলে দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেন।

মোহাম্মদ জুবায়েরঃ হামলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সিভিল এভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র মোহাম্মদ জুবায়ের, যার শিক্ষকই ‘আজাদী আন্দোলন’-এর মুখপাত্র শাহরিয়ার আলম।

ফয়সাল আহমেদঃ একই প্রতিষ্ঠানের আরেক শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদও ভিডিওতে হামলার সময় ভুক্তভোগীদের ওপর গুরুতর আঘাতের চেষ্টা করতে দেখা যায়।
এই ব্যক্তিদের পরিচয়, তাদের মতাদর্শিক অবস্থান, সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং হামলার দিনকার ভূমিকা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় ঘটনাটি ছিল আকস্মিক নয়; বরং একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের সমন্বিত সহিংসতা, যেখানে নেতৃত্ব, প্রচারণা, মাঠপর্যায়ের সংগঠন এবং মতাদর্শিক উসকানি সবকিছুই পূর্বপরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে।
উক্ত ব্যক্তিদের মতাদর্শিক পটভূমি, উগ্রপন্থী বক্তব্য ও অনলাইন প্রচারণা ও সংগঠিত নেটওয়ার্কের বিস্তারিত অনুসন্ধানে দেখা যায় ‘আজাদী আন্দোলন’-এর প্রচারণায় বিদ্বেষমূলক ধর্মীয় ব্যাখ্যা, “আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র” তত্ত্ব এবং “সমাজ রক্ষার” নামে সহিংসতার বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য অতীতে খেলাফত মজলিস, জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী, এবং উগ্রপন্থী বক্তাদের প্রচারণায় দেখা গেছে।

হামলার দিনকার ঘটনাপ্রবাহঃ পরিকল্পনা, সমাবেশ, হামলা ও মিছিল
১. দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তি
উসকানিমূলক ভাষায় সমাবেশের ঘোষণা।
২. সন্ধ্যা ৭টা: সমাবেশ শুরু
হাদীচত্বরে সমবেত হওয়া, স্লোগান, উসকানি।
৩. রাত ৮টা: মিছিল শাহবাগে প্রবেশ
ব্যানার হাতে সংগঠিত অগ্রযাত্রা।
৪. হামলা শুরু
ভুক্তভোগীদের ওপর চড়াও হওয়া, নারীদের শ্লীলতাহানি, মারধর।
৫. লাইভ সম্প্রচার
ঘটনাটি জনসমক্ষে প্রচারের উদ্দেশ্যে লাইভ করা।
৬. রাত ১১টা পর্যন্ত মিছিল
হামলার পরও দীর্ঘ মিছিল, উসকানিমূলক স্লোগান।
শাহবাগে সংঘটিত হামলার সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এটি কোনো আকস্মিক বা তাৎক্ষণিক উত্তেজনা থেকে সৃষ্ট সহিংসতা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের পরিকল্পিত প্রদর্শন। হামলার আগে ‘আজাদী আন্দোলন’-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত উসকানিমূলক বার্তা এবং সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান সবকিছুই ইঙ্গিত দেয় যে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। মাঠপর্যায়ে সংগঠনের সদস্যরা যেভাবে সমবেত হয়েছে, ব্যানার হাতে মিছিল করেছে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালিয়েছে, তা একটি সংগঠিত গোষ্ঠীর সমন্বিত কার্যক্রমের দিকেই নির্দেশ করে। হামলার পুরো ঘটনাটি লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে, যা কেবল ঘটনাকে প্রচারের উদ্দেশ্যেই নয়, বরং নিজেদের শক্তি ও প্রভাব প্রদর্শনের কৌশল হিসেবেও দেখা যায়। জড়িত ব্যক্তিদের অতীত কর্মকাণ্ড, অনলাইন পোস্ট এবং মতাদর্শিক অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের মধ্যে উগ্রপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণার প্রবণতা আগে থেকেই ছিল। হামলার পরও রাত পর্যন্ত চলা মিছিল এবং উসকানিমূলক স্লোগান এই নেটওয়ার্কের ক্ষমতা প্রদর্শনের আরেকটি দিক। সব মিলিয়ে ঘটনাটি শুধু কয়েকজন ভুক্তভোগীর ওপর হামলা নয় এটি সমাজের নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত, যা একটি সুসংগঠিত ও মতাদর্শনির্ভর সহিংস নেটওয়ার্কের উপস্থিতি ও কার্যক্রমকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।









