ঢাকা | সোমবার | ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৫শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

কৃষক কার্ডে নতুন নতুন সেবা যুক্ত হবে বললো কৃষিমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের উদ্যোগে চালু হওয়া কৃষক কার্ডে আরও বেশি বয়সোপযোগী ও প্রয়োজনীয় নতুন সেবা সংযুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষক হচ্ছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পেশা। এই কৃষক কার্ড কৃষকদের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করবে এবং তারা আরও সহজে বিভিন্ন সেবা পেতে পারবে। বর্তমানে বিধিবদ্ধ সেবা সমূহের বাইরে এই কার্ডের মাধ্যমে আরও সময়োপযোগী বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হবে বলে মন্ত্রী জানান। রবিবার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি উন্নত ডাটাবেজের আওতায় এসে ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগ কৃষিকে লাভজনক ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে। তা ছাড়াও, এটি জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।

মন্ত্রী আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অগ্রাধিকার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রত্যেক কৃষকের জন্য এই কৃষক কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও পেমেন্ট সুবিধাযুক্ত সেবাগুলো সহজে পৌঁছে দেওয়া হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকার এই উদ্যোগ নিচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। এতে করে সারের অপচয় হ্রাস পাবে, উৎপাদন পরিকল্পনা উন্নত হবে এবং কৃষকদের ক্ষতি কমবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি দেশের অর্থনীতির ভিত্তি। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কৃষকের হাতেই — তাদের জমির উর্বরতা, মাটির গুণাগুণ ও ফসলের বৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করে কৃষি সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা প্রণোদনা ও বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট ডিলারদের কাছে সরবরাহকৃত মেশিনের মাধ্যমে সার, বীজ, মাছ বা প্রানি খাদ্যসহ কৃষি উপকরণ সহজে কিনতে পারবে তারা।

সেইসঙ্গে এই কার্ডের মাধ্যমে আরও সুবিধা প্রদান করা হবে, যেমন ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, সাশ্রয়ী দামে কৃষি যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজারের তথ্য, কৃষি প্রশিক্ষণ, রোগ-বালাই মোকাবিলার পরামর্শ, কৃষি বিমা সুবিধা এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য বিক্রয় সুবিধা যুক্ত রয়েছে।