ঢাকা | শনিবার | ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

জ্বালানি সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই, মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বর্তমানে কোনও ধরনের সংকট দেখা যাচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে চেষ্টাকারীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান, যাতে জনগণ হয়রানি বা অপ্রয়োজনীয় দামের পরিবর্তন থেকে রেহাই পায়।

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছু সরবরাহ চুক্তি ‘ফোর্স ম্যাজর’-এর আওতায় পড়লেও এখন বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছ অগ্রগতি চলমান রয়েছে এবং অনুমোদন পেলে দ্রুত সরবরাহ শুরু হবে। তিনি আরও জানান, দেশের জ্বালানি আমদানি ও পরিশোধন কার্যক্রম চালু রয়েছে। বিশেষ করে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় আছে, চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতেও ক্রুড অয়েল পরিশোধন প্রক্রিয়া চলমান। ফলে, জ্বালানি সরবরাহে কোনও ঘাটতি দেখা যাচ্ছে না।

জ্বালানি মজুতদাররা ও কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর মনোভাবের কথা জানান মনির হোসেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নানামুখী অভিযান চলছে। অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত বা সঞ্চালন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, উদ্ধারকৃত জ্বালানি তেল সাধারণ মানুষের জন্য স্থানীয় বাজারে সাধারণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

কৃষকদের জন্য ডিজেল সরবরাহে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তারা প্রকৃত কৃষকদের তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। কোনও কৃষক যাতে অপ্রতুলতা বা বঞ্চনা নয়, সেজন্য কঠোর নজরদারি চলছে।

অভিযোগ উঠেছে, কিছু ফিলিং স্টেশনে ভিআইপিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে—এই অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনও নির্দেশনা বা অনুমতি নেই। সবাইকে সমানভাবে জ্বালানি সরবরাহের নীতিতে সরকার অবিচল।

বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় জ্বালানি সাশ্রয়ের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এই পরিস্থিতি সমাধানে ব্যক্তি পর্যায়ে সাশ্রয়ী আচরণ অপরিহার্য। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা, তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এর সমাধান সম্ভব।

বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ কি আগের চেয়ে বেশি হচ্ছে বলে প্রশ্নের জবাবে মনির হোসেন জানান, সরবরাহ চাহিদা অনুযায়ী সামঞ্জস্য করে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় চলছে।

নতুন কোন উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তানসহ অন্যান্য নতুন উৎস থেকে আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, সিঙ্গাপুরসহ আঞ্চলিক বাজার থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।